ঝুঁকিতে নারায়নগঞ্জ, লকডাউন হতে পারে পুরো শহর

নারায়ণগঞ্জের পৃথক দুই স্থানে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে এক নারী ও এক পুরুষ মারা যাওয়া এবং এক চিকৎসক করোনাক্রান্ত হওয়াসহ, করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে অনেকের মাঝে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি জেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনও শঙ্কা অনেকের মাঝে। যদিও স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন করোনা সংক্রমণরোধে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীও মাঠে রয়েছে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে।

যদিও শিল্প অধ্যুষিত এই জেলায় এখনও অনেকে করোনাভাইরাস রোধে সচেতন নন। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছেন না অনেকে এলাকাতেও। এসব নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে অনেকের মধ্যে। করোনা সংক্রমণ এসব জনসমাগম থেকে বিস্তার ঘটতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সচেতন মহল থেকে। এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পৃথক দুজন মারা যাওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি এলাকা লকডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একইসঙ্গে এই দুজনের সংস্পর্শে আসায় বেশ কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও করোনা সন্দেহে জেলাব্যাপী ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এসব কিছু মিলিয়ে পুরো জেলার সচেতন মহলের মাঝে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। রয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাও। এমন পরিস্থিতিতে পুরো নারায়ণগঞ্জকে লকডাউন করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহসীন মিয়া। তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলাকে লকডাউনের দাবি করেন। মোহসীন মিয়া লিখেছেন, ‘জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমাদের নারায়ণগঞ্জ জেলাটাকে লকডাউন করে দিবেন, প্লিজ। আমরা ঝামেলামুক্ত থাকতে চাই।’

এদিকে অনেকেই মোহসীন মিয়ার দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সরকার সচেতনা তৈরির ক্ষেত্রে প্রচারণা চালাচ্ছে। মাঠে সেনাবাহিনীও নামিয়েছে। কিন্তু সাধারণ অনেক মানুষই এসব নির্দেশনা মানছেন না। তারা বিনা প্রয়োজনে অবাধে চলাফেরা করছেন, আড্ডা দিচ্ছেন যত্রতত্র। ফলে এমন পরিস্থিতি রোধ করতে হলে লকডাউনের বিকল্প নেই। আর তা যদি সম্ভব না হয় তবে, এই জেলা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত মোহসীন মিয়ার অমন দাবির অনুরোধর জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের দৃষ্টিগোচর হয় কিনা, বা হলেও কী ব্যবস্থা নিবেন তিনি, সেটিই এখন দেখার বিষয়।