গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়, ক্ষুব্ধ ব্যাংকাররা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। মহামারি মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দুই দফায় তা বাড়িয়েছে। গণপরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া সবধরনের দোকানপাটও বন্ধ। তবে দেশের আর্থিক অবস্থা সচল রাখতে সীমিত আকারে চালু রেখেছে ব্যাংক খাত।

ব্যাংকগুলোতে লেনদেন হচ্ছে তিন ঘণ্টা। এই সময়ের বেশির ভাগ গ্রাহকই টাকা তুলতে আসছেন। মাসের শুরুর দিক হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাংকে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করোনাভাইরাসের মারাত্মক ঝুঁকি দেখা দেয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যাংকাররা। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সীমিত শাখা খোলা রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

মাসের প্রথম দিক হওয়ায় বেতন, অবসর, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা তোলার চাপ অনেক বেড়ে গেছে। রবিবার ব্যাংকে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকার তুলনায় জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোতে গ্রাহকদের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, তারা ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। গ্রাহকদের নিয়ন্ত্রণে শাখা ব্যবস্থাপকদের পুলিশ পর্যন্ত ডাকতে হয়েছে। এতে করে করোনা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রবিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রায় সব ব্যাংকের সব শাখায় গ্রাহকদের ছিড় ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে সোনালী, রূপালী, জনতা ও ইসলামী ব্যাংকে ভিড় সবচেয়ে বেশি ছিল।

সোনালী ব্যাংকের যশোরের কেশবপুর শাখার এক কর্মকর্তা ঢাকা টাইমসকে বরেন, আমাদের ব্যাংকে প্রতিদিনের চেয়ে আজ বেশি গ্রাহক এসেছেন। গ্রাহকের এতটাই চাপ ছিল যে লাইনে এক ইঞ্চি ফাঁকাও ছিল না। ব্যাংকের ভেতর ছিল লোকে লোকারণ্য। এমনকি গেটের বাইরেও ছিল শত শত গ্রাহক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেশবপুর থানা পুলিশের সহায়তা নিতে হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের নওগাঁ পত্নীতলা শাখা, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর শাখা, টাঙ্গাইল শাখা এবং চট্টগ্রামের মিরেরসরাই শাখাতে গ্রাহক ভেতরে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। এমনকি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেকটা কষ্ট হয়েছে। কারণ স্বল্প সময় লেনদেন হওয়ায় গ্রাহকরা কে আগে টাকা উঠাবে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যেও অনেকেই বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

ইসলামী ব্যাংকের এক গ্রাহক ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমি সাড়ে ১২টার দিকে ব্যাংক যাই টাকা তুলতে। কিন্তু এত ভিড় যে, টাকা না তুলে চলে এসেছি। আগামীকাল আবারও যাবো।

এদিকে, একাধিক ব্যাংকারের সাথে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঢাকা টাইমসকে তারা বলেন, জ্যামিতিক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে ব্যাংকের সবগুলো শাখা কেন খোলা। ব্যাংকারদের নিরাপত্তার পাশাপাশি যারা ব্যাংকে আসছেন, সবাই ঝুঁকিতে রয়েছেন। নির্দেশ মেনে নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে?

তারা এই পরিস্থিতিতে বিকল্প কিছু পরামার্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু শাখা খোলা রাখা, যে শাখাগুলো খোলা থাকবে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া, যেন বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। সুনির্দিষ্ট শাখাগুলোতে যারা ডিউটি করবেন তাদের আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা এবং শাখার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

এদিকে সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাংকাররা বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়ের ছবি দিয়ে নানা সমালোচনা করেছেন। তারা কেউ লিখেছেন- ‘এই রসিকতার শেষ কোথায়? কেউ লিখেছেন, প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এর মাঝে আমাদের উদাসীনতা, নিয়ম না মানার সংস্কৃতি তো আছেই। আবার রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কাছে হার মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে অনেক শ্রেণির পেশার মানুষের। এসবের মাঝেও বড় ঝুঁকি আবার ব্যাংক খোলা রেখে করোনা প্রতিরোধ! রীতিমতো রসিকতার শামিল। গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়, সামাল দেয়ায় দুষ্কর।’

আরেকজন লিখেন, ‘আচ্ছা- ব্যাংক যদি খোলাই থাকে তাহলে প্রবেশমুখেই কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লোক জিজ্ঞাসার জন্য থাকছে না? কারণে অকারণে ব্যাংকে ভিড়- ব্যাংক খোলা মানেই তো গ্রাহকদের সমাগম। আহা! কী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আমাদের। এই সমন্বয়হীনতা, উদাসীনতা হয়তো আমাদের জন্য খারাপ সংবাদ নিয়ে আসবে।’