আহলান সাহলান ইয়া মাহে রামাদান

আজ পহেলা রমজান। গতকাল সূর্য অস্ত যাওয়ার পরপরই নতুন চাঁদ উদিত হয়ে রমজান মাসের সূচনা করেছে। আরবি রমাদান শব্দের ফারসি উচ্চারণ রমজান। রমাদানের শব্দমূল রমদ, যার অর্থ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ।

৬২২ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমা থেকে প্রায় ২৯৬ মাইল উত্তরে অবস্থিত মদিনা মনাওয়ারায় হিজরত করে আসেন। এখানে এসে তিনি জানতে পারেন এখানকার ইয়াহুদিরা মুহররমের ১০ তারিখ আশুরার দিনে সিয়াম পালন করে।

তারা জানায়, তাদের নবি হজরত মুসা (আ.) বনি ইসরাইলের হাজার হাজার মানুষকে জালিম রাজা ফেরাউনের কারাগার থেকে উদ্ধার করে লোহিত সাগরের ওপারে যেদিন নিয়ে গিয়েছিলেন, সেদিন ছিল আশুরা। তাই তিনি এদিন কৃতজ্ঞতা ও মুক্তির নিদর্শনস্বরূপ সিয়াম পালন করতেন। তাকে অনুসরণ করে ইয়াহুদিরা আশুরায় সিয়াম পালন করে আসছে।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেলেন, মুসার ওপর আমাদের অধিকার তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই বছর আশুরা এলে তিনি এবং তার সাহাবিগণ আশুরায় সিয়াম পালন করলেন। এর প্রায় সাড়ে সাত মাস পরে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি মোতাবেক দ্বিতীয় হিজরির ১৫ শাবান তারিখে রমাদান মাসে সিয়াম পালনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়ে ইরশাদ করেন : রমাদান মাস, যাতে নাজিল হয়েছে মানুষের দিশারি সত্পথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী পবিত্র আল কোরআন। সুতরাং তোমরা যারা এই মাস প্রতক্ষ করবে, তারা এতে সিয়াম পালন করবে। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)।

সিয়াম শব্দের শব্দমূল সওম, যার অর্থ বিরত থাকা। দৃঢ়সংকল্প করে যাবতীয় কামাচার, পানাহার ও পাপাচার থেকে সুবিহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকটাই হচ্ছে সিয়াম। এই সিয়ামকে ফারসিতে বলা হয় রোজা। আত্মশুদ্ধি, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি গুণ অর্জনের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয় রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে। আমরা এই মোবারক মাসকে জানাই খোশ আমদেদ।

রমজান মাস অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি ধারণ করে রয়েছে। অধিকাংশ আসমানী কিতাব ও সহিফা নাজিল হয়েছিল রমজান মাসে। পহেলা রমজান হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে নাজিল হয়েছিল সহিফা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মুসলিম জাতির জনক। তিনিই মক্কা নগরীর পত্তন করেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণ করেন এবং হজের ঘোষণা দেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমাদানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক দোজখের আগুন থেকে নাজাতের।

লেখক: পির সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ