পোশাকশিল্পে আড়াই বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সংকটময় পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাকশিল্পে ২ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে।

বুধবার এ তথ্য জানান তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার সকাল ১০ টা পর‌্যন্ত ৮৮০টি কারখানার ৭৭১ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন পোশাক পণ্যের অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। যার মূল্য ২ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত তৈরি পোশাক খাতের সাতটি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। এসব কারখানার মালিকরা নিজেরাই বন্ধ করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকাটাইমসকে আসিফ ইব্রাহিম বলেন, শ্রম আইনের বিধিমালা অনুসরণ করে মালিকরা নিজেরাই সাতটি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিজিএমইএ’র প্রত্যেক সদস্যকে জানানো হয়েছে যে যদি তারা কারখানা বন্ধ করেন, তাহলে শ্রম আইনের সমস্ত বিধি অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ সব বৃহৎ অর্থনীতির সব দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় অংশই যায় ইউরোপে। ইতালি, জার্মানিসহ কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। অনেক জায়গাতেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকান। কমেছে স্থানীয় কিংবা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিসর। বেশি আক্রান্ত স্থানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গুটিয়ে নিয়েছে তাদের আউটলেট। এমন অবস্থায় ক্রেতারা বাতিল করছেন ক্রয়াদেশ। আর এতে ভয়াবহ সংকটে পড়তে যাচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প।

বিজিএমইএ সভাপতি বর্তমান পরিস্থিতিকে ভয়াবহ অবস্থা আখ্যা দিয়ে তেরী পোশাক শিল্পের সকল ক্রেতাকে এ সময় পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন।

তবে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।