দিল্লির নিজামুদ্দিনের সেই মসজিদ বন্ধ করে দিল কেজরিওয়াল

দিল্লির নিজামুদ্দিনের একটি মসজিদে তাবলীগ জামাতে যোগ দেওয়ার পর ফিরে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সাতজন মারা গেছে এবং আক্রান্তের লক্ষণ থাকায় আরো দু’শ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে তাবলীগ জামাতের শাদপন্থীদের ‘হেড-কোয়ার্টার’ হিসেবে পরিচিত সেই মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সাড়ে আটশ মানুষকে সেখান থেকে বাসে করে বিভিন্ন স্থানে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গতকালই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, হাজার মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার কারণে ওই মসজিদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে।

সামাজিকভাবে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে শতবর্ষ পুরনো ওই মসজিদে কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিলেন। বিশাল ওই মসজিদে গত ৯ ও ১০ মার্চ তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজার হাজার ভারতীয় এবং শত শত বিদেশি যোগ দিতে গিয়েছিলেন।

সেখান থেকে ফিরে গিয়ে ছয়জন মারা গেছে তেলাঙ্গানায়। অন্যদিকে শ্রীনগরে মারা গেছে একজন। ওই মসজিদ থেকে ফেরার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে ১০ জন শনাক্ত হয়েছে আন্দামান এবং নিকোবার দ্বীপে।

ওই মসজিদে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমার, কিরগিজস্তান, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, জেবুতি, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ফিজি, ফ্রান্স ও কুয়েত থেকে তাবলীগের সদস্যরা এসেছিলেন।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই মসজিদে যারা যারা এসেছেন, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। প্রতিদিন করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানানো হচ্ছে।

মার্কাজ নিজামুদ্দিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২২ মার্চ থেকে কারফিউ জারির ঘোষণা দেওয়ার পর ২৪ তারিখের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।