করোনা ঝুঁকি কমাতে মিডিয়াগুলোর যে পদক্ষেপ

মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী এগারো হাজারের অধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। এবার প্রাণঘাতী ভাইরাসটি থাবা বসিয়েছে বাংলাদেশে। এমন পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম কর্মীরাও রয়েছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। তাদের এই ঝুঁকি কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নিয়েছে নানা উদ্যোগ। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশেও।

প্রথম আলো: অফিসে প্রবেশের আগেই তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবার জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। আংশিকভাবে চালু হয়েছে ওয়ার্ক অ্যাট হোম (বাড়ি থেকে অফিস)। অসুস্থ বোধ করলেই অফিস থেকে ছুটি নিতে বলা হয়েছে।

অধিকার ডট নিউজ ও দৈনিক অধিকার: বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জরুরি এক ঘোষণায় জানানো হয়, শনিবার (২১ মার্চ) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিজ নিজ বাসায় থেকে সংবাদের কাজ করবেন বার্তা বিভাগের সাংবাদিকরা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সার্ভারে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রিন্ট ও অনলাইনের সংবাদের কাজ পরিচালনা করা হবে।

অপরদিকে নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা, উপজেলা, ক্যাম্পাস এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি স্টার: সংবাদ কর্মীদের হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য ভবনের নিচেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বেসিন রাখা হয়েছে। এমনকি তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। অফিস থেকে প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।

মেডিকেল বা ঝুঁকিপূর্ণ রিপোর্টিংয়ের জন্য আলাদা পোশাকের কথাও ভাবা হচ্ছে। আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলনে রিপোর্টার না পাঠিয়ে টেলিভিশন বা অন্য সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। যে কোনো সংবাদের জন্য হাসপাতালে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

ঢাকা ট্রিবিউন: প্রবেশের সময় জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কারের পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে মাস্ক দেওয়া হয়েছে। ডেস্ক এবং ফ্লোর দুটোই প্রতিদিন জীবাণুনাশক দিয়ে কয়েকবার করে পরিষ্কার করা হয়। সব কর্মীকে বাসা থেকে অফিস করার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টারদের অফিসে না গিয়ে স্পট থেকে নিউজ পাঠাতে বলা হয়েছে। আর যারা অনলাইন/ডেস্কে কাজ করেন তারাও এখন বাসা থেকে কাজ করতে পারবেন। তবে প্রিন্ট পত্রিকার জন্য মাত্র কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক পালাক্রমে অফিসে যাবেন।

বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকা ট্রিবিউনের মতো বাংলা ট্রিবিউনের কর্মীরাও ওয়ার্ক অ্যাট হোম সুবিধা পাচ্ছেন।

বিডিনিউজ 24: পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে ভীষণভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। এমনকি মৌখিকভাবে ওয়ার্ক অ্যাট হোমের প্রস্তুতিও নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পোস্ট: সতর্কতার অংশ হিসেবে দেশের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট ও অনলাইন আজকের বাংলাদেশপোস্ট.কম কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছাড়া সকলেই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে বসে কাজ করবেন।

সময় টিভি: তাপমাত্রা মেপে সবাইকে অফিসে ঢুকতে হচ্ছে। যাদের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক তাপমাত্রা রয়েছে, কেবল তাদের বাসায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক এবং গ্লাভস দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া রিপোর্টারদের প্রথমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করতে বলা হয়েছে। গণপরিবহন এড়াতে কর্মীদের আনা নেওয়ার জন্য পিক-ড্রপের সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

চ্যানেল 24: প্রবেশকালেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। কাজের মধ্যেও হাত জীবাণুমুক্ত করতে প্রতিটি ডেস্কে পর্যাপ্ত হেক্সিসলের ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি অফিস নির্দেশনায় সাংবাদিকদের ওয়ার্ক আওয়ারে বাইরে যেতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এমনকি গণপরিবহন এড়াতে কর্মীদের আনা নেয়ার জন্য পিক-ড্রপের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআর বিভাগ জানিয়েছে, চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি ভাইরাসটি বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। বর্তমানে দেশটিতে একজনের প্রাণহানিসহ অন্তত ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।