করোনাভাইরাস : শিশুদের বাঁচাতে যেসব নিয়ম মেনে চলতেই হবে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে একের পর এক দেশে স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন শিশুদের অভিভাবকরা। কারণ তারা বুঝতে পারছেন না এমন পরিস্থিতিতে তাদের সন্তানরা কী করতে পারবে আর কী পারবে না।

দুই সপ্তাহ আগে ইতালিতে যখন কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ছিল কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে লোকজনকে তখনও ঘরে থাকতে বলা হয়নি। পরে যখন এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ করে দিল সরকার  তখনও ক্যাথরিন উইলসনস বুঝতে পারেননি ভাইরাসটি ইতালিজুড়ে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তিনি ভাবলেন বাচ্চাদের নিয়ে পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার এটাই তো সুযোগ। তিনিসহ আরো অনেক মা এটাকে ছুটি বা হলিডে হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন।

এর কয়েকদিন পর ইতালিয়ান সরকার সারা দেশকেই অবরুদ্ধ করে ফেলার কথা ঘোষণা করে। যার অর্থ পার্কে যাওয়া তো দূরের কথা জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়াও চলবে না।

ক্যাথরিন উইলসনের মতো সারা বিশ্বেই বহু মা বুঝতে পারছেন না এই পরিস্থিতিতে বাচ্চারা কী করতে পারবে আর কী করতে পারবে না।

ইতালির মতো বাংলাদেশেও স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার পর অনেক অভিভাবকই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ সময় সোশাল মিডিয়াতেও বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন লোকজন।

সংবাদ মাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে দেশের পযর্টন স্পটগুলোতে লোকজনের ভিড় বেড়েছে।

তবে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ করা হয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে, বেড়াতে যাওয়ার জন্য নয়। তিনি আরো বলেন, বাচ্চাদেরকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অসুখের বিস্তার ঠেকাতে লোকজনকে সমাজের আর সকলের কাছ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে হবে।

কিন্তু বাড়ির কাছে খেলার মাঠে কি যেতে পারবে শিশুরা? অথবা কোনো বন্ধুর বাড়িতে? এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জন্স হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কেরি আলথফ বলছেন, “সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মানে সবাইকেই এটা মানতে হবে- ছোট বড় সবাইকে। একজনকে আরেকজনের কাছ থেকে সবসময় ছয় ফুট দূরে থাকতে হবে। তার মানে ফুটবল বা বাস্কেটবলের মতো খেলার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু খেলা আছে যেগুলোতে আরেকজনের খুব কাছে যেতে হয় না, যেমন টেনিস কিম্বা লুকোচুরি বা হাইড এন্ড সিক, সেগুলো খেলতে পারে। কিন্তু ফুটবলের মতো খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্ব থাকে না।

তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস যে মানবদেহের বাইরে কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারে সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণে খেলার মাঠ এবং খেলার সামগ্রী এড়িয়ে চলা উচিত।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনগুলোতে পিতামাতাকে হয়তো আরো একটু কঠোর হতে হবে এবং স্কুল বন্ধ থাকায় কীভাবে সময় কাটানো যায় তা নিয়ে সন্তানদের সাথে আলোচনা করে ঠিক করে নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে যতোটা সম্ভব অনলাইনে বা ইন্টারনেটে যোগাযোগ করাই নিরাপদ। বিভিন্ন ভিডিও অ্যাপের মাধ্যমেও কথা বলতে পারেন।

তারা আরো বলেন, আশেপাশে বন-জঙ্গলের মতো খোলামেলা প্রাকৃতিক জায়গা থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে সেসব জায়গায় হাঁটতে যাওয়া যেতে পারে। সেখানে তারা সাইকেলও চালাতে পারে।