আমরা এমন কেন?

পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের আচার আচারণ। সভ্য হচ্ছে সমাজ ব্যবস্থা। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। হচ্ছে পদ্মা সেতু, হচ্ছে মেট্রো রেল। সব কিছুই এগিয়ে যাচ্ছে সমান্তরালে। তবুও কোথাও একটা কমতি। শুধু অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত ভাবে একটি দেশ উন্নতি হলে সে দেশকে উন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ বলা যায় কিন্তু আপনি যখন দেখবেন সেই দেশ মানুষিকভাবে দিন দিন মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়ছে তখন কি বলবেন? সেটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশের পর। আমরা সবসময় সুযোগের সৎ ব্যবহারে খুবই পটু। আগে পিছে না ভেবে নিজের লাভের জন্য ভালো হোক বা মন্দ হোক সুযোগের সৎ ব্যবহার করে ফেলি। অন্যান্য মনুষ্যত্বহীন বিষয়ের কথা বাদই দিলাম। সম্প্রতি সময়ে সবচেয়ে আলোচিত যে বিষয়টি মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে সেটা হল মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশসহ যাবতীয় সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি। এক শ্রেণীর অসাধু বা মুনাফালোভী ব্যক্তিরা মানুষের চাহিদাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত লাভ করার নেশায় থাকে। অথচ উন্নত দেশগুলোতে দেশের সংকটকাল মুহূর্তে সবাই মিলে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়। আমাদের দেশের এইসব অসাধু মুনাফালোভীদের কারণে নিজেদের বাঙালি পরিচয় দিতে মাঝে মধ্যে লজ্জাবোধও চলে আসে।

এর আগে পেঁয়াজ ও লবন নিয়েও একই অবস্থা সৃষ্টি করেছিল মনুষ্যত্বহীন ব্যক্তিরা। সামনে আসছে রমজান এসময় হয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে মনুষ্যত্বহীনতার পরিচয় দিবে মানুষরুপি সেই পশুগুলো। রাসূল (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৩৮)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (সংকট তৈরি করে) খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ১৬০৫)। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুদ রাখে, সে আল্লাহ-প্রদত্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ২০৩৯৬)

অথচ বিভিন্ন মুসলিম দেশ বিশেষ করে আরব দেশগুলোতে রমজান মাসজুড়ে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় নামেন কে কত কম দামে জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারেন। গোশত থেকে শুরু করে চাল, ময়দা, চিনি, তেল, দুধসহ যাবতীয় নিত্যপণ্যের দাম নেমে আসে অর্ধেকে। অনেক দেশে ভোজ্যতেলের দাম কমে নেমে আসে তিন ভাগের এক ভাগে। কোনো কোনো পণ্য ৯০ ভাগ পর্যন্ত ছাড়ে বিক্রি করা হয়। ব্যবায়ীদের নিজ উদ্যোগে দাম কমানো ছাড়াও অনেক দেশে সরকারিভাবে রমজান মাসে পণ্যের দাম কমিয়ে নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

অপর দিকে ঠিক যেন উল্টো চিত্র বিরাজ করে বাংলাদেশে। কত বেশি লাভ করা যায়, কত বেশি হাতিয়ে নেয়া যায় সে জন্য রমজান মাসের আগমনের জন্য মুখিয়ে থাকেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে অপেক্ষায় থাকেন রমজানে আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হওয়ার জন্য। সরকার যতই পদক্ষেপ নিক আর ব্যবস্থা নিক মানুষরুপি ঐসব জানোয়ারদের মধ্যে যতক্ষণ না মনুষ্যত্ববোধ তৈরি হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবেই আমাদের ভুগতে হবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস।