মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজের সাড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড | |

মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজের সাড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড

২০০৮ সালে ভারতে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজ সাঈদকে সন্ত্রাসী হামলায় অর্থযোগানোর অভিযোগে দুইটি মামলায় সাড়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার রুপি জরিমানা করেছে পাকিস্তানের লাহোরের সন্ত্রাসী বিরোধী একটি আদালত। উভয় মামলার শাস্তি একই সাথে বজায় থাকবে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, পাকিস্তানের ইসলামি সংগঠন জামায়াত উদ দাওয়ার ( জেইউডি) প্রধান এবং সশস্ত্রগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থবরাদ্ধের অভিযোগে মামলা করে দেশটির লাহোর ও গুজরানওয়ালার সন্ত্রাস নির্মূল বিভাগ (সিটিডি)। প্রাথমিকভাবে গুজরানওয়ালার সন্ত্রাস নির্মূল আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। পরে লাহোর হাইকোর্টের নির্দেশে সেখানকার সন্ত্রাস বিরোধী আদালতে মামলার শুনানি চলে। শুনাতিতে ২৩ জন হাফিজের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। দেশটির সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১১-এফ (২) এবং ১১ (এন) ধারায় অভিযুক্ত করেছে আদালত।

বুধবার আদালতে হাফিজের উপস্থিতিতে সন্ত্রাস বিরোধী আদালতের বিচারক আরশাদ হুসাইন ভুট্টো রায় ঘোষণা করেন। দেশটির ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারায় হাফিজকে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাফিজকে হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছে আদালত।

দুটি মামলায় হাফিজের সাথে আল-আনফাল ট্রাস্টের সেক্রেটারি মালিক জাফর ইকবালকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। জাফরকেও একই শাস্তি প্রদান করেছে আদালত।

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০৮ সালে ভারতের বাণিজ্যিক শহর মুম্বাই হামলায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে হাফিজকে অভিযুক্ত করে আসছে। হামলার পেছনে হাফিজের দলের সাথে ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এলইটি বলেও দাবি করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। মুম্বাই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়েছিল। মুম্বাই হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র হাফিজকে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করে।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ৩০০ দিনের কারাবাস যাপনের পরে হাফিজকে মুক্তি দিয়েছিল পাকিস্তান। তারপর গত বছরের জুলাই মাসে লাহোর থেকে গুজরানওয়ালায় যাওয়ার পথে হাফিজকে আটক করেছে সন্ত্রাস নির্মূল বিভাগ (সিটিডি)। হাফিজকে গ্রেপ্তারের পূর্বে তার বিরুদ্ধে ২৩টি অভিযোগ জমা পড়েছিল সিটিডি-র কাছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে হাফিজের আইনজীবী ইমরান গিল জানায়, ‘নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থ যোগানো’ ও ‘অবৈধ সম্পত্তি-র’ অভিযোগে হাফিজকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তবে ভিন্ন দাবি করেছেন মামলার প্রসিকিউটর আব্দুল রউফ ওয়াট্টু। ব্রিটিশ বার্তা রয়টার্সকে ওয়াট্টু জানান, ‘হাফিজ ও জাফর ইকবালকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানোর অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

পাকিস্তানের বিভিন্ন আদালতে হাফিজের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সহায়তা, ভূমি দখলের অভিযোগে বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আল-আনফাল ট্রাস্প, দাওয়াতুল ইরশিদ ট্রাস্ট, মোয়াজ বিন জাবাল ট্রাস্টসহ আরো কয়েকটি সংস্থার জন্য অর্থ যোগাড় করতো হাফিজের দল জামায়াত উদ দাওয়ার (জেইউডি)। গত বছরের এপ্রিল মাসে হাফিজের দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগের অভিযোগে সবগুলোকে নিষিদ্ধ করে সিটিডি। গত কয়েক সপ্তাহ যাবত পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলবাহিনীর সদস্যরা ওই ট্রাস্টের সাথে জড়িত সন্দেহে ১০০ জনের বেশি কর্মকর্তাকে আটক করেছে।