বাঘের গর্জনে বিশ্বকাপ এবার বাংলাদেশের

অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসেই নিজের নামটিকে অমর বানিয়ে ফেললেন অনুর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়ক আকবর আলি। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের দেয়া ১৭৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৪৩ রানে সপ্তম উইকেট পড়ার পর বোধহয় সমর্থকরা আশাভঙ্গের বেদনা নিয়ে টিভি অফ করার চিন্তাই করছিলেন। তবে আকবর হয়তো তখনো ভাবছিলেন জয়ের কথাই এবং সত্যিই ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে ৭৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে জেতালেন বিশ্বকাপ!

ম্যাচের পরতে পরতে ছিল বাঁকবদল। অধিনায়ক আকবর আলীই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জেতালেন দলকে। যখন নেমেছিলেন তখন ৬৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে দল ধুঁকছে। একটুপর গেলেন অভিষেক দাশও। ইচ্ছাশক্তির জোরে মাঠে নামলেন আগেই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে উঠে যাওয়া ওপেনার পারভেজ ইমন। ইমনকে সাথে নিয়েই দাঁতে দাঁত চেপে একটু একটু করে জয়ের দিকে এগুচ্ছিলেন আকবর। ব্যক্তিগত ৪৭ ও দলীয় ১৪৩ রানে ফিরলেন ইমন। তখনও লাগে ৪৪ রান, হাতে মাত্র তিনটি উইকেট। ব্যাটসম্যান বলতে তখন একা আকবরই আছেন। সেখান থেকে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে রাকিবুলকে নিয়ে ম্যাচ জেতালেন আকবর। ঐ কমবয়সী কাঁধেই ভর করেছিল ষোল কোটি মানুষের আশা, এই আশার সম্মান রেখেছেন তিনি।

শেষ রানের সাথে সাথে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়ক আকবর আলি এবং তাঁর সতীর্থরা ঢুকে গেলেন ইতিহাসে। হ্যাঁ, প্রথমবারের মতো তারা দেশকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ! হোক যুব বিশ্বকাপ, তবুও ট্রফিটির নাম বিশ্বকাপই। জুনিয়র টিম বা সিনিয়র টিম, কেউই কখনো বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো এত বড় মঞ্চে খেলেন নি। তারওপর ভারতের সাথে ফাইনাল! সব চাপ সামলে দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানোর গৌরব অর্জন করল এই দল।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথম ধাক্কা খায় দলীয় ৯ রানে, সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাক্সেনা। এরপর ধীরে সুস্থে খেলে ভারত ৩৯ ওভার পর্যন্ত তোলে ১৫৬ রান, হারায় মাত্র দুইটি উইকেট। ১৫৬ রানেই পরপর পড়ে দুই উইকেট, ড্রেসিংরুমে ফেরেন সর্বোচ্চ ৮৮ রান করা জয়সওয়াল এবং ভীর। এবারের ধাক্কা আর সামলাতে পারে নি ভারত। টাইগার যুবাদের উজ্জীবিত বোলিংয়ে ভারতীয় ইনিংসের যতি পড়ে ১৭৭ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে বল করেছেন ছয়জন বোলার, এর মধ্যে চারজনের ইকোনমি রেটই সাড়ে তিনের নিচে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন অভিষেক দাস।