নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

কয়েক ঘণ্টা পরই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। আগামীকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীজুড়ে একযোগে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনী পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে নগরীজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীজুড়ে বাড়তি পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নগরীর ভোটকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় বাড়তি সতর্কতা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি করতে দেখা গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তায় টহল দিতে দেখা গেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের। পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের সদস্যরা দায়িত্বপালন করছেন।

পুলিশ জানায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব, আনসার বাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপতৎপরতা এড়াতে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামিরাসহ নজরদারিতে রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকাণ্ড। রাজধানীর ভোটার ছাড়া বহিরাগতদের তৎপরতার বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। এছাড়া, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাইবার ক্রাইম টিমের মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

শুক্রবার রাত বাড়ার সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে আসছে। একইসঙ্গে কমে আসছে গণপরিবহনের চলাচল। নগরীর প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র‌্যাব-পুলিশের তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন সবাইকে তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রয়োজনে যাচাই করা হচ্ছে পরিচয়পত্র।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, সুষ্ঠুভাবে দুই সিটি নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য পুলিশের প্রায় ২১ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন। সব মিলিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৪০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। তারা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনের পর পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় পুলিশের ৫৪টি মোবাইল টিম এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৭৫টি মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ডিএনসিসিতে ১৮টি ও ডিএসসিসিতে ২৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। রিজার্ভ ফোর্স থাকবে ডিএনসিসিতে ২৭টি এবং ডিএসসিসিতে ২৫টি। উত্তরে বিজিবি ২৭ প্লাটুন ও দক্ষিণে ৩৮ প্লাটুন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র জানায়, দুই সিটি করপোরেশনের ২৪৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ উল্লেখ করে পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরসঙ্গে পুলিশ আরও কয়েকশ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ তালিকাভুক্ত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম সংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরো ১০ হাজার স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ তাদের সবটুকু সামর্থ্য দিয়ে কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজমান। তবে এখনো যারা বহিরাগত ঢাকায় অবস্থান করছেন, তারা দয়া করে ঢাকা ছেড়ে চলে যান। দুই সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ভোট কেন্দ্রের আশপাশে বহিরাগতদের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য হবে না, তাদেরকে আটক করা হবে। বিনা প্রয়োজনে বহিরাগত নাগরিকদের ঢাকায় অবস্থানে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি নগরবাসীর সুবিধার্থে সঙ্গে ঠিকানা নির্দেশক ফটো আইডি রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী নিরাপত্তায় র‌্যাবের তৎপরতা প্রসঙ্গে বাহিনীটির মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে র‌্যাবের একটি পেট্রোলিং টিম থাকবে। ঢাকায় পাঁচটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে, সেখানে স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ থাকবে। এছাড়া যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতি এড়াতে প্রস্তুত থাকবে র‌্যাবের কমান্ডো বাহিনী, হেলিকপ্টার টিম। দায়িত্বরত থাকবে বোম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড টিমের সদস্যরা। সার্বক্ষণিক পুরো পরিস্থিতি স্পেশাল মনিটরিংয়ে থাকবে।