ইভিএমে যেভাবে ভোট দেবেন

ঢাকার দুই সিটির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শতভাগ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইভিএম পদ্ধতিতে।

এ পদ্ধতির সঙ্গে ভোটারদের পরিচিতি না থাকায় ইতিমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অনুশীলনমূলক ভোট দান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা জানান, ইভিএমে ভোটাররা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্মার্ট কার্ড ও আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেবেন বলে জালিয়াতির সুযোগ কম। তবে বেশির ভাগ মানুষ ইভিএম পদ্ধতি সম্পর্কে না জানায় ভোটারদের বেগ পেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইভিএমে ভোট দিতে যেসব পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে

ভোট কেন্দ্রের নির্ধারিত কক্ষে প্রিজাইডিং অফিসার প্রথমে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড, আঙুলের ছাপ ও ভোটার নম্বর যাচাই করে তাকে ভোটার হিসেবে নিশ্চিত করবেন। এ সময় ভোটারের ছবি ও তথ্য একটি মনিটরে প্রদর্শিত হবে, যাতে সকল প্রার্থীর এজেন্টরা ভোটারের পরিচয় দেখতে পারেন।

আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার পর ভোট দেয়ার গোপন কক্ষে থাকা ইভিএম মেশিনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সচল হবে। ভোটার সেখানে যাবেন। যতগুলো পদের জন্য ভোট প্রদান করতে হবে কক্ষের ভেতরে মনিটরে (স্ক্রিনে) ততগুলো ডিজিটাল ব্যালট ইউনিট প্রদর্শিত হবে। এই ইউনিটে প্রার্থীদের প্রতীক বাম পাশে এবং নাম ডান পাশে দেখা যাবে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তার প্রতীকের বাম পাশের সাদা বাটনে চাপ দিতে হবে। এ সময় প্রতীকের পাশে বাতি জ্বলে উঠবে। ভোট নিশ্চিত করতে ডান পাশের সবুজ বাটনে চাপ দিতে হবে। একই নিয়মে অন্যান্য পদের জন্যও ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

কোনো কারণে যদি ভোটার ভুল প্রতীক শনাক্ত করেন তাহলে সবুজ বাটন চাপ দেওয়ার আগে তা সংশোধন করতে পারবেন। ভুল সংশোধনের আগে ভোটারকে ডান পাশের লাল বাটনে চাপ দিতে হবে। এতে ভুল করে দেওয়া পূর্বের ভোটটি বাতিল হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। সঠিকভাবে পুনরায় প্রতীকের পাশের বাটনে চাপ দিয়ে সবুজ বাটনে চাপ দিলে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হবে।

সবুজ বাটন চাপ দেওয়ার পর ভোট দেওয়া প্রতীক ছাড়া বাকি সকল প্রতীক অদৃশ্য হয়ে যাবে। এতে ভোটার নিশ্চিত হবেন যে ওই প্রতীকে তার ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অবশ্যই কেন্দ্রে আসার আগে ভোটারকে তার ভোটটি কোন বুথে পড়েছে সেটি জেনে আসা ভালো। তাহলে আরও সহজেই ভোট দেওয়া সম্ভব হবে।