আলোচিত লালদিঘি হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

তিন দশক আগে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা শুরুর আগে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার পাঁচজনকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন সোমবার বিকাল তিনটার দিকে চার আসামির উপস্থিতিতে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আসামিরা হলেন- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি অঞ্চলের তৎকালীন পেট্রোল ইনসপেক্টর জে সি মণ্ডল, কন্সটেবল মোস্তাফিজুর  রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, শাহ মো. আবদুল্লাহ ও মমতাজ উদ্দিন। প্রথম জন পলাতক আছেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৩০২ ও ৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং আরেক চার্জে ৩৩৪ ধারায় আসামিদের ১০ বছরের জন্য সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রায় ঘোষণার সময় চারজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। আর অপর আসামি জে সি মণ্ডল পলাতক। তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান আসামি মারা গেছে বলে আমাদের কাছে প্রতিবেদন এসেছে।’

১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা ছিল। ওই দিন বেলা ১টার দিকে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকটি আদালত ভবনের দিকে আসার সময় গুলিবর্ষণ শুরু হয়। সেসময় আইনজীবীরা মানববেষ্টনি তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে তাকে আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যান।

আলোচিত এই মামলার সাক্ষীরা আদালতে বলেছেন, ওই দিন পুলিশের গুলিতে মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়। তৎকালীন সরকার নিহতদের কারও লাশ পরিবারকে নিতে দেয়নি। হিন্দু-মুসলিম নির্বিচারে সবাইকে নগরীর বলুয়ার দীঘি শ্মশানে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল।

ওই দিনের ঘটনায় নিহতরা হলেন- মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত।

তৎক্ষালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সেই সময়ে মামলাটির কার্যক্রম এগোয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।