স্বাগত ২০২০ | |

স্বাগত ২০২০

বিদায় নিল সুখ-দুঃখের আরেকটি বছর ২০১৯ সাল। বিশ্বজুড়ে কত ঘটনা, কত হাসি-কান্না, বিষাদ ও উত্তেজনা- সবকিছুকে ছাপিয়ে স্বপ্ন আর দিনবদলের অপরিমেয় প্রত্যাশার রক্তিম আলোয় উদ্ভাসিত ইংরেজি ক্যালেন্ডারের শুভ নববর্ষ। নতুন বছরে নতুন রংয়ে শুরু হোক আমাদের পথচলা। দেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে আলোচিত বিষয় ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয় আওয়ামী লীগের। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও শরিকদের ছাড়াই তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বছরের শেষ দিকে শুরু হয় একের পর এক সম্মেলন। নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ। দল ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের আগেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে ঘুষ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করতে শুদ্ধি অভিযান চালায়। শুদ্ধি অভিযানের প্রভাব পড়ে দল ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনেও। তুলনামূলকভাবে বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হয় পদ থেকে। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে অবিশ্বাস্য পরাজয়ের পর বছরজুড়ে দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল নেত্রীর মুক্তি। আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন নাকি চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি- এ নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর পুরো ২০১৯ সালটাও হতাশায় কেটেছে বিএনপির। দলীয়ভাবে সংগঠন শক্তিশালী করতে পারেনি। এরশাদের মৃত্যুর পর জাপায় নানামুখী সংকট তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির ত্রিবার্ষিক নবম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান হন, বেগম রওশন এরশাদকে করা হয় দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বছরজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছিল উত্তপ্ত। ফাহাদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়ে বুয়েট। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধের পাশাপাশি নেয়া হয় আরো বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর বিদায়ী বছরে ছিলেন বহুল আলোচিত ছাত্রনেতা। দফায় দফায় এই ছাত্রনেতা হামলার শিকার হন। নতুন সরকারের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা ২০১৯ সালে দেশের অর্থনীতি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের। কিন্তু প্রত্যাশিত সে গন্তব্যে যেতে পারেনি দেশের অর্থনীতি। দ্রব্যমূল্যের উত্তাপের মধ্যে গেল বছরের আলোচিত খাদ্যপণ্য ছিল পেঁয়াজ। সামাজিক অবক্ষয়ও কম ছিল না। অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজ-উদ দৌলাসহ ১৬ জনেরই ফাঁসির রায় দেন। বিচার বিভাগ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নতুন বছরের কাছে আরো অনেক প্রত্যাশার বীজ বুনে গেছে বিদায়ী বছর। বিগত বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠা আর সাফল্যকে সংহত করার প্রত্যয় নিয়ে আমরা বরণ করছি নতুন বছরকে। আমরা চাই, উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকুক। রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তাময় অবস্থার অবসান হোক। ২০২০ সালের প্রতিটি দিন হোক সুন্দর ও কল্যাণময়।