শেয়ারবাজারের পতন দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে বছর

পতনের মধ্য দিয়ে আরও একটি সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহ পতনের মধ্যে থাকল শেয়ারবাজার। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে মোটা অংকের বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দরপতন ঘটে। এতে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে সপ্তাহটিতে হাজার কোটি টাকার ওপরে মূলধন হারিয়েছে ডিএসই।

বড় অংকের বাজার মূলধন হারানোর সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৯০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৯টির। আর ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে টানা চার সপ্তাহের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমল প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৮৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৫৭ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ১৫৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং তার আগের সপ্তাহে কমে ৬০ দশমিক ১০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। । অর্থাৎ চার সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক হারাল তিনশ পয়েন্টের ওপরে।

প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি পতন হয়েছে অপর দুটি সূচকের। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহে কমেছে ২ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা দশমিক ২৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ১৯ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ৩৯ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং তার আগের সপ্তাহে কমে ২৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

আর ডিএসই-৩০ গত সপ্তাহে কমেছে ৪ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা দশমিক ৩০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৩৪ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে কমে ৫৭ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং তার আগের সপ্তাহে কমে ৪১ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

সবকটি সূচকের এমন পতনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দুইশ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২৬৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২৭৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা বা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘বি’ গ্রুপের অবদান ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান ২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের অবদান ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অংকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২৬ কোটি ৫৬ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিং শাইন টেক্সটাইল।

লেনদেনে এরপর রয়েছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং জিনেক্স ইনফোসিস।