রাঙ্গাবালীতে আমনের বাম্পার ফলন তবে হতাশ কৃষকরা | |

রাঙ্গাবালীতে আমনের বাম্পার ফলন তবে হতাশ কৃষকরা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আমন ধান কেটে বাড়ি উঠানোর কাজ শুরু হয়েছে । তবে কিছু কিছু চর এলাকার ধানে হলদে আবরণ পুরোপুরি এখনো আসেনি । চলতি মৌসুমে রাঙ্গাবালীর ৫ টি ইউনিয়নে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা। যার ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে  গ্রামের কৃষকদের। ন্যায্যমূল্য পাবে কিনা সে বিষয় হতাশ কৃশকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,  ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের বাতাসের প্রভাবে কিছু এলাকায় কাঁচা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিল কিন্ত ক্ষতির পরিমাণ তার পরেও খুব বেশি হবে না বলে ধারণা করছেন তারা। তবে বুলবুলের কারণে ১৫ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন উপজেলা কৃষি অফিস। এ পর্যন্ত সার্বিকভাবে আমন ফসল উৎপাদনের ভালো পরিবেশ রয়েছে। বিশেষ করে অতিবৃষ্টিপাত- বীজ, চারা রোপণ, পোকামাকর নির্মুলে কৃষকদের সচেতনতা,  সময়মতো বৃষ্টির পানি পাওয়া, রোগ-বালাই প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন এবং কৃষি অফিসের কর্মীদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনসচেতনতা মূলক প্রোগ্রাম, যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে এবার রাঙ্গাবালীতে আমনের ভালো ফলন হয়েছে। তবে মাঠ থেকে ধান বাড়ি তুললেও   ন্যায্যমূল্য পাবে কিনা সে শঙ্কায় ভুগছেন এবং হতাশা প্রকাশ করছেন উপজেলার কৃষকরা। জানা গেছে সরকার এবার আমন ধান খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৬ টাকা কেজি  ও ১০৪০টাকা মন করে ক্রয় করবে। এ জন্য উপজেলার কৃষকদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.জুয়েল জানান ইতোমধ্যে উপজেলার ১৫-২০ শতাংশ আমনের ফসল কাটা হয়েছে। বাকি ফসল কাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছে কৃষকরা। তিনি আরো জানান, এবার আমন চাষ হয়েছে ৩৫৫০০ হেক্টর জমিতে। এতে উফশী রয়েছে ২২০০০হেক্টর ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের রয়েছে ১৩৫০০হেক্টর জমিতে। উপজেলায় উফশী প্রতি হেক্টর জমিতে ৩.৫ মেট্রিক টন ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের প্রতি হেক্টর জমিতে ২.৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে বলে আশা করা যায়। এবসর জমিতে যে আকারে ফলন হয়েছে, তাতে গত বছরের চাইতে এবার ফসল উৎপাদন বেশি হওয়র সম্ভাবনা রয়েছে।

ফুলখালী গ্রামের মিজানুর গাজী বলেন, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষয়ক্ষতি না হলে গত বছরের চেয়ে এ বছর ধান আরো অনেক ভালো হইত।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু অনেক সময় কৃষকরা সরকারি বিধি মেনে গোডাউনে ধান বিক্রি করতে সমস্যা মনে করে ধান দিতে চান না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অ.দা.) আবদুল মান্নান বলেন, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতির কারণে চলতি মৌসুমে আমন ধানের ফলনে অনেকটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে। তার পরেও ফলন মোটামুটি অনেক ভালো হয়েছে।