নির্ধারিত সময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে শঙ্কা

আইন অনুয়ায়ী ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে ধোয়াসায় রয়েছে সাংবিধিনিক প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ভোটার তালিকা হালনাগাদে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি নাগরিক।

ইসি কর্মকর্তরা জানান, বর্তমানে ভোটার তালিকা আইনে রয়েছে- কম্পিউটার ডেটাবেইজে সংরক্ষিত বিদ্যমান সকল ভোটার তালিকা প্রতি বছর ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে হালনাগাদ করে তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু এবার আইন অনুযায়ী তা প্রকাশ করতে পারছে না ইসি।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ২ জানুয়ারি খসড়া তালিকা মনে হয় প্রকাশ করা হবে না এবার। শুনেছিলাম আইটির কোন সমস্যা হয়েছিল। আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। এসব বিষয়ে এনআইডির মহাপরিচালক বিস্তারিত বলতে পারবেন।

এসব বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছরের মত এবার ২ জানুয়ারি ও ৩১ জানুয়ারি খসড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মনে হয় প্রকাশ করা হবে না। আমাদের প্ররিকল্পনা আছে ২০ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশ করে ১ মার্চ চূড়ান্ত তালিকে প্রকাশ করা হবে। এ জন্য বর্তমান ভোটার তালিকা আইনের সংশোধন আনতে ইতোমধ্য আইন মন্ত্রণারযে পাঠানো হয়েছে।

এনআইডির কর্মকর্তারা জানান, এবারের হালনাগাদে (১৫-১৮ বছর বয়সী) চার বছরের তথ্য সংগ্রহ করছে ইসি। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম এ রকম নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবার। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের নাম ২০২০ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যাদের বয়স এখনো ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। বুধবার ( ৪ ডিসেম্বর ) পর্যন্ত ৯০ লক্ষ ৬৬ হাজার ১০৫জন নতুন নাগরিকের তথ্য নিবন্ধন করেছে ইসি। তবে খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় এ সংখ্যার কম বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি কর্মকর্তারা।

এদিকে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ’ বিষয়ক কমিটি যে প্রস্তাব করেছে। সেখানে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ২ জানুয়ারি কিংবা ২০ জানুয়ারি কোনটায় রাখা হয়নি। তাদের সুপারিশে বরং রাখা হয়েছে, ১৫ জানুয়ারি খসড়া তালিকা প্রকাশ, ১৬ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি দাবি, ১ ফেব্রয়ারি থেকে ৭ ফেব্রয়ারি দাবি নিষ্পত্তি, ৮ ফেব্রয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রয়ারি সিডি প্রস্তুত এবং ১ মার্চ ভোটার দিবসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সূচি সুপারিশ করা হয়েছে।

এই কমিটি গত ১০ অক্টোবরের বৈঠকে ভোটার তালিকা নিয়ে যেসব প্রস্তাব করেছে, তাতে উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোটার তালিকা আইনে খসড়া প্রকাশের যে তারিখ উল্লেখ রয়েছে, তা তুলে দিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত তারিখে ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন সহায়তা-২ শাখাকে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত। এছাড়া এবছর চলমান হালনাগাদের খসড়া ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ১ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে।

সূত্র জানায়, বর্তমান আইন অনুযায়ি ২ জানুয়ারি ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাম করার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে এনআইডি মহাপরিচালক জানিয়েছে ইসির পরিকল্পনায় রয়েছে ২০ জানুয়ারি খসড়া ১ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার প্ররিকল্পনা রয়েছে। এরও আগে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে কমেটির সুপারিশ রয়েছে ১৫ জানুয়ারি খসড়া প্রকাশ করে ১ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার সুপারিশ। সে ক্ষেত্রে কবে কবে খসড়া ও কবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এনিয়ে শংঙ্কার কথা জানিয়েছে ইসি কর্মকর্তারা। এছাড়া আইন সংশোধনের জন্য বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি কেবিনেট হয়ে সংসদে আসবে। সেক্ষেত্রে সময়েরও ব্যাপার রয়েছে। ইসির হাতে সময় খুব বেমি নেই। এমন অবস্থায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে ধোয়াসায় কমিশন।

জানা যায়, ২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরুর হয়। প্রথমবারের মতো ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত হয়। এরপর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ ও মৃতদের বাদ দেওয়াসহ হালনাগাদ কাজ চলে। ২০০৯, ২০১২, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে হালনাগাদ করা হয়। দেশে বর্তমানে ১০ কোটি ৪২ লাখের মতো ভোটার রয়েছে। এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রতমে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২ কোটি টাকা। আর সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হয়েছিল চলতি বছরের গত ২৩ এপ্রিল।