আজ কিংবদন্তি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৬তম জন্মদিন | |

আজ কিংবদন্তি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৬তম জন্মদিন

আজ ২৯ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ চিত্রকলার পথিকৃৎ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১৪ সালের কিশোরগঞ্জের জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম তমিজউদ্দিন আহমেদ এবং মা জয়নাবুন্নেছা। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। জাগো নিউজ ২৪

জয়নুল আবেদিন ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গুগলের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুগলে ঢুকলে চোখে পড়বে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে করা ডুডলটি।

ডুডলে দেখা যায়, জয়নুল আবেদিন রং তুলি আর ছবি আঁকার কাগজ নিয়ে একটি গাছের নিচে বসে ছবি আঁকছেন। তিনি তুলির আঁচড়ে গুগল শব্দটি লিখছেন । ঠিক তার পাশ ঘেষে রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে হেটে যাচ্ছেন কলসি বহন করা এক ব্যক্তি। যার পোশাক আর গড়নে রয়েছে দুর্ভিক্ষের ছাপ।

বিশেষ দিন, ঘটনা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাতে ও স্মরণ করতে গুগল নিজেদের হোমপেজে বিশেষ লোগো প্রদর্শন করে। এটা ডুডল হিসেবে পরিচিত। গুগল সার্চের মূল পাতায় প্রদর্শিত লোগোটির নিচে থাকে সার্চ বার।

জয়নুল আবিদিনের জীবনী :
শৈশব থেকে ছবি আঁকার প্রতি ছিলো প্রবল ঝোঁক। রং তুলির আঁচড়ে ফুল-ফল, বৃক্ষ, লতাপাতা, মাছ, পাখিসহ নানা বিষয় মেলে ধরেছেন সাদা ক্যানভাসে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় গিয়েছিলেন গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস দেখতে। পরে সেখান থেকেই পড়াশোনা করেন। ১৯৩৮ সালে ওই প্রতিষ্ঠানের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে।

১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষ জয়নুল আবেদিনকে একেবারে বদলে দেয়। তিনি নিসর্গ থেকে বাংলার দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে ক্যানভাসে চিত্রমালা আঁকেন। ‘দুর্ভিক্ষ’ শিরোনামের চিত্রমালার জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। এ ছাড়া তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো মধ্যে আছে ১৯৫৭ সালে আঁকা ‘নৌকা’, ১৯৫৯ সালে ‘সংগ্রাম’, ১৯৭১ সালে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘ম্যাডোনা’ ইত্যাদি। তার দুটি দীর্ঘ চিত্রকর্ম হচ্ছে ১৯৬৯ সালে আঁকা ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭৪ সালে আঁকা ‘মনপুরা-৭০’।

জয়নুল আবেদিনের কর্ম ও স্মৃতির উদ্দেশ্যে রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। দিনটিকে ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি নিজের হাতে গড়ে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের বর্ণিল আয়োজনে স্মরণ করবে। তার স্মরণে বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের হোমপেজে ডুডল করা হয়েছে।

শিল্পীর শৈশব এবং তারুণ্যের প্রধানতম অর্জন ছিল প্রাকৃতিক ঐশ্বর্যের অভিজ্ঞতা। তার শৈল্পিক মানসিকতা নির্মাণে প্রকৃতির প্রভাব ছিল অসামান্য ও সুদূরপ্রসারী। তিনি বলতে ভালোবাসতেন, ‘নদীই আমার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক’। তিনি শুধুমাত্র এদেশের একজন স্বনামধন্য শিল্পীই ছিলো না, তিনি ছিলেন এদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ১৯৫৭-এ নৌকা, ১৯৫৯-এ সংগ্রাম, ১৯৬৯-এ নবান্ন, ১৯৭০-এ মনপুরা-৭০, ১৯৭১-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভৃতি। ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য সারা বিশ্বে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে জয়নুল আবেদিনই চিত্রকলার উপর বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছিলেন। চিত্রাঙ্কনের চেয়ে চিত্রশিক্ষা প্রসারের ওপর অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছেন। তার চিত্রকর্মের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৭৬ সালের ২৮ মে দীর্ঘ ৬ মাস ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগে মাত্র ৬২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।