প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী | |

প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করেছি। এবার লক্ষ্য দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। দেশের প্রতিটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই।’

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ) উন্নয়ন মেলা-২০১৯ উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’সহ বেশকিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের গৃহীত এসব কর্মসূচির ফলে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আগামীতে এটাকে ১৬ ভাগে নামিয়ে আনতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে দারিদ্রমুক্ত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যার সবগুলোর লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন। আমরা দেশকে ক্ষুধামুক্ত করতে পেরেছি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য দারিদ্র্যমুক্ত করা। শুধু বর্তমান না আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ রেখে যেতে চাই। যাতে তারা সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ এই সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া। তিনি বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করি। আমরা সবসময় হিসাব করেছি, আমাদের মূল শত্রুটা হলো দারিদ্র্য। আর দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হবে, দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই কর্মপরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করি। যখন আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখনই আমরা এটা তৈরি করি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ শুরু করি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রথমবার যখন সরকারে আসি, তখন দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করি।

‘১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আমরা পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের কাজ হাতে দেই। সেই সঙ্গে সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও আমরা প্রণয়ন করে কার্যক্রম শুরু করে দেই। দারিদ্র্য নিরসন, বৈষম্য দূর করে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা আমাদের লক্ষ্য ছিল এই প্রেক্ষিত পরিকল্পনায়। পরবর্তীকালে যখন ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকারে আসি, তখন ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করি। যা এমডিজি এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এরপর আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যাবে না। এ ব্যাপারে, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা করছে সরকার।

ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য বিমোচন নয় বরং দারিদ্র্য লালন করে এমন মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে অনেকেই বাহবা কুড়াতে চেয়েছিলেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে কেউ কেউ বিশ্বব্যাপী সুনামও করেছিলেন। কিন্তু সেটি শুধু ছিল ব্যক্তিগত অর্জন। মূলত ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য বিমোচন নয়, দারিদ্র্য লালন করে।’

অনুষ্ঠানে, দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ঋণের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে প্রান্তিক মানুষকে সেবা দেয়ায় পিকেএসএফ’র কার্যক্রমের প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।

পিকেএসএফের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্যপ্রদর্শনী ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে মেলা। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের ১৯০টি স্টল এ মেলায় স্থান পেয়েছে।

নিত্যব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে প্রান্তিক ক্ষুদ্র উৎপাদকদের উৎপাদিত বিষমুক্ত কৃষিপণ্য, খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী, প্রসিদ্ধ ও সমাদৃত হাজারও পণ্যের সমাহার নিয়ে বসেছে এ মেলায়। মেলার নির্বাচিত শিল্পীদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রতি সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রয়েছে।

উদ্বোধনী অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই উন্নয়ন ও মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয় পিকেএসএফের পক্ষ থেকে। উন্নয়ন মেলায় পিকেএসএফের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।