দক্ষিণের নেতৃত্বে মন্নাফী-কবির, উত্তরে বজলু-কচি | |

দক্ষিণের নেতৃত্বে মন্নাফী-কবির, উত্তরে বজলু-কচি

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সভাপতি হয়েছেন আবু আহমেদ মন্নাফী এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন হুমায়ুন কবির।

আর ঢাকা উত্তর মহানগরে সভাপতি হয়েছেন শেখ বজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এস এম মান্নান কচি।

শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  এর আগে প্রথম অধিবেশন সকাল ৯টার পরে শুরু হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সেখানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভাপতি পদে ১৫ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরে সাতজন এবং দক্ষিণে আটজন। আর উত্তর ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে উত্তরে নয়জন এবং দক্ষিণে ১৩ জন।

কমিটি ঘোষণার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।

এর আগে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর তিন বছর পর নগর আওয়ামী লীগকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে বিভক্ত করে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল দুই মহানগরের দুটি কমিটি দেওয়া হয়।

আবু আহমেদ মন্নাফী 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন আবু আহমেদ মন্নাফী। ১৯৬৭ সালে ওয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দিয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার দেখা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী ১৯৭১ সালে ৩নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে থেকে তিনি সুত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

শেখ বজলুর রহমান

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন শেখ বজলুর রহমান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন তিনি। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, ৪৬নং ওয়ার্ড (বর্তমান ৩৩) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৪৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হুমায়ুন কবির

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন মো. হুমায়ুন কবির। ইতিপূর্বে বৃহত্তর লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের (১৯৯২-২০১৬) দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯৪ থেকে ২০০২ এবং ২০০২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দুই মেয়াদে ৫৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ২০১৫ থেকে অদ্যাবধি ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এস এম মান্নান কচি

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এস এম মান্নান কচি। অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ১৯৮৩-৮৪ সালে। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য (১৯৯৭) এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক (২০০২) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।