সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : স্পিকার | |

সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারাবাহিক নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধারাবাহিক নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ সকল সূচকে সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।’
স্পিকারের সাথে আলজেরিয়া পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট স্লিমানে চেনাইন এর সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
বেলগ্রেডে ১৪১তম ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর ভেন্যুতে এই বৈঠক রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, সংসদীয় চর্চা, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই আলজেরিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আজও স্মরণীয় হয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদীয় চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আলজেরিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি আলজেরিয়া পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রন জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর এই নীতিতে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে ওআইসিভূক্ত দেশসমূহ শান্তি আনয়নে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলজেরিয়া পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট স্লিমানে চেনাইন বলেন, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, আইপিইউ সম্মেলন এমন এক মিলনমেলা যেখানে বিশ্বের সকল দেশ মত-বিনিময়ের সুযোগ পায়। সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।
এ সময় বাংলাদেশ সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চীফ হুইপ নূর -ই-আলম চৌধুরী, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ এমপি, শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু এমপি এবং মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এমপি, আবদুস সালাম মূর্শেদী এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, সুবর্ণা মুস্তাফা এমপি, শবনম জাহান এমপি, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান এবং ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার উপস্থিত ছিলেন।