পদ্মার বুকে ৩২ পিলার, বসছে আরেক স্প্যান | |

পদ্মার বুকে ৩২ পিলার, বসছে আরেক স্প্যান

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ যতই এগিয়ে চলছে প্রমত্তা পদ্মার বুকে ততই দৃশ্যমান হচ্ছে সেতু। মূল সেতুর ৪২টি পিলারে মধ্যে ইতিমধ্যে ৩২টিই হয়ে গেছে। পিলার তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত। সেতুর পিলারের জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পাইল বসানো শুরু হয়। এরপর চার বছর পেরোনোর আগেই এ বছরের জুলাইয়ে শেষ হয় সেতুর সর্বমোট ২৯৪টি পাইলের কাজ। এসব পাইলের ওপর ইতিমধ্যেই একে একে মূল সেতুর ৩২টি পিলার নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। বাকি রয়েছে ১০টি পিলার। সর্বশেষ সেতুর ৩২নং পিলারের কাজ শেষ হয়।

গত সোমবার সকাল ৯টায় দেড়শ মিটার র্দীঘ ১৫তম স্প্যান ‘ফোর-ই’ ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে সেতুর ২৮ ও ২৯নং পিলারের কাছে রওনা হয়। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ১৫তম বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুটি দৃশ্যমান হবে ২২৫০ মিটার। ১৫তম স্প্যান বসানো হলো পরবর্তীতে প্রতি মাসে দুটি করে স্প্যান বসানো পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সেতু সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মা সেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর ঢাকা টাইমসকে বলেন, সেতুর ৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০ ও ৩১ পিলার নির্মাণকাজ চলছে। বাকিগুলো সম্পূর্ণ। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর মধ্যে ৩১নং পিলারের কাজ কয়েক সপ্তারের মধ্যে শেষ হবে। বাকি পিলারগুলোর নির্মাণকাজও এগিয়ে চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজের শুরুতে ৪২টি পিলারে নিচে ২৬৪টি পাইলের রাখার নকশা করা হয়। কিন্তু নদীর গভীর তলদেশে কাদামাটির স্তর ও গঠনগত বৈচিত্র্য থাকায় নতুন নকশা করতে হয়। নতুন নকশায় ১ ও ৪২ নম্বর পিলারে ১৬টি করে মোট ৩২টি পাইল করা হয়। আর ২২টি পিলারে সাতটি করে মোট পাইল ১৫৪টি এবং ১৮টি পিলারে ছয়টি করে মোট ১০৮টি পাইল রাখা হয়।

খরস্রোত নদীতে পাইলের ওপর পিলার যেন একশত বছরের বেশি সময় টিকে থাকে এমনভাবে নদীতে পাইল ড্রাইভ করা হয়েছে।

এদিকে বর্ষা মৌসুমজুড়ে নদীতে প্রতিনিয়ত পলি এসে জমা হয়ে নাব্য কমায় ও প্রবল ¯্রােতে সেতুতে কোনো স্প্যান বসানো যায়নি। বর্তমানে সেতুর ৬টি স্প্যান বসানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।