জোগান-সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবুও বাড়ছে দাম | |

জোগান-সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবুও বাড়ছে দাম

আগাম সবজিতে ভরা দেশের কাঁচাবাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে আসছে পর্যাপ্ত সবজি। জোগান ও সরবরাহেও ঘাটতি নেই কোনো। তবুও কাঁচাবাজারে পকেট কাটা যাচ্ছে ক্রেতাদের।

আগের দিন যে টমেটো ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেটিই আজ বিক্রি হচ্ছে একশ বিশ টাকায়। আর এভাবে কমবেশি কাঁচাপণ্যেরই দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে বিশ টাকা পর্যণÍ।

তবে দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক উত্তরও নেই বিক্রেতাদের। বাজার পর্যবেক্ষণে নিষ্ক্রিয়তা আর পণ্যমূল্যের তালিকা নিয়ে গড়িমসির সুযোগে ক্রেতাদের জিম্মি করে পকেট কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আর ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে বাড়তি দাম গুনতে বাধ্য হচ্ছেন ত্রেতারাও।

রাজধানীর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান ও সরবরাহ রয়েছে স্বাভাবিক। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত বাজারগুলোতে পণ্যের মূল্য তালিকা থাকার কথা। কিন্তু অধিকাংশ বাজারেই এসব মূল্য তালিকা লেখার পেছনে অনীহা আছে বাজার কমিটির।

মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ বাজারটি সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত। বাজার লিমিটেড ১ নম্বর সড়কে রয়েছে দৈনন্দিন মূল্য তালিকা লেখার বোর্ড। কিন্তু ২০১৮ সালের মাঝামাঝি ওই বোর্ডে শেষবার মূল্য তালিকা লেখা হয়েছিল। এরপর বোর্ডে আর কখনো মূল্য তালিকা লেখা হয়নি। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বাজারে মূল্য তালিকার বোর্ড আছে তারা তা জানেন না।

আবার মোহাম্মদপুরের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে পরিচিত কৃষি মার্কেট বাজারে মূল্য তালিকার বোর্ড থাকলেও তা লেখা হয় অনিয়মিত। আবার যেদিন লেখা হয় সেদিনও বোর্ডের মূল্য তালিকার সাথে বিক্রিত পণ্যের দামের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট খুচরা বাজার ও শিয়া মসজিদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত দুই দিনের তুলনায় শুক্রবার সবজির মূল্য বেশ কিছুটা বেড়েছে। কেজি প্রতি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে  অনেক সবজির দাম।

ক্রেতারা জানান, শুক্রবার এসব বাজারে ক্রেতা আনাগোনা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। তাই ক্রেতা বাড়ার সাথে সাথে নানান অজুহাতে পন্যের দাম বাড়ান বিক্রেতারা।

চাল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, সবজিসহ সব কিছুর দাম বাড়ানো হয়। তবে পন্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলেও নির্ভরযোগ্য কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে টমেটো। যদিও দুই আগে এই টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, চিচিংগা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। দাম বাড়ার পাল্লায় কিছুটা দূরে শশা। ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া শশার দাম এ সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। বাজারে নতুন আসা কাচা টমেটোর দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। কেজি প্রতি দাম নেয়া হচ্ছে ৬০ টাকা।

বেড়েছে ব্রয়লার মুরগীর দাম। ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগী এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা পর্যন্ত। স্থির রয়েছে ব্রয়লার মুরগীর ডিমের দাম। হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া মাছের বাজারে দেখা গেছে স্বাভাবিক উত্তাপ। রুই বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। পাঙ্গাশ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। আর আকার ভেদে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত।