গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সেলিমের | |

গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল সেলিমের

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল অনলাইন ক্যাসিনো সম্রাট সেলিম প্রধানের। সম্পর্কের কারণে মামুনকে ‘বিএমডাব্লিউ’ গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন সেলিম।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছেন সেলিম। মঙ্গলবার বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারওয়ার-বিন-কাশেম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। গত মাসে তার মায়ের মৃত্যু কারণে চার ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ‘অনলাইন ক্যাসিনো থেকে উপার্জিত টাকা তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার হতো। ব্যাংকগুলো মধ্যে রয়েছে- সিলন ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও কমার্শিয়াল ব্যাংক। এই টাকা লন্ডনে পাঠানো হতো।’

তবে কোথায় পাঠিয়েছে সেটা তদন্তের পর জানানো সম্ভব হবে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার প্রধান বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এ কারণে মামুনকে ‘বিএমডাব্লিউ’ গাড়ি উপহারের দিয়েছিলেন সেলিম।’

কবে এই গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। পরে সুর্নিদিষ্টভাবে বলতে পারব। এগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।’

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অন্যতম পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে কি-না জানতে চাইলে সারওয়ার বলেন, ‘আমরা এমন কিছু পাইনি। তবে সেলিম অনলাইনে ক্যাসিনো এক বছর আগে শুরু করেছিলেন।’ ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা সেলিম প্রধান তার ভাইয়ের হাত ধরে হাজার ১৯৮৮ সালে জাপান চলে যান। সেখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে জাপানিদের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর সেখান থেকে থাইল্যান্ড যায়। সেখানে শিপইয়ার্ডের একটি ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে জাপানিদের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। যার নাম মিস্টার দু। এমিস্টার দু সেলিমকে বাংলাদেশ একটি কনস্ট্রাকশন সাইট খোলার প্রস্তাব দেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি অনলাইন ক্যাসিনো খেলার পরামর্শ দেন। সেই সূত্র ধরে টি-২১ এবং পি-২৪ নামে অনলাইন গেমিং সাইট চালু করে। এর মূল কাজ হচ্ছে টাকার মাধ্যমে খেলা।

 

সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ব্যাংকগামী থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট (টিজি ৩২২) থেকে সেলিম প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গুলশান-২ নম্বরের ৯৯ নম্বর রোডের ১১/এ ছয়তলা বাসায় অভিযান চালানো হয়। এছাড়া বনানীতে তার ব্যবসায়িক অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে ৪৮টি মদের বোতল, ২৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫০০ নগদ টাকা, ২৩টি দেশের বৈদেশিক ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা সমমূল্যের মুদ্রা ও ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক জব্দ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে অনলাইন ক্যাসিনো খেলার মূল সার্ভার, আটটি ল্যাপটপ এবং দুটি হরিণের চামড়া।