মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন | |

মানহানির মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন

মানহানির মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ এ তথ্য জানান।

গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) একই আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। সেসময় শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’-এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’

মাসুদা ভাট্টির এমন প্রশ্নে রেগে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’

পরে ব্যারিস্টার মইনুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেন নারী সাংবাদিকরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন। বিবৃতি দেন বিশিষ্ট নাগরিকরাও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মইনুলের সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার মইনুল তার মন্তব্যের জন্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু দাবি অনুযায়ী প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়ায় ২১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন মাসুদা ভাট্টি। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয় ব্যারিস্টার মইনুলের নামে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন।