ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের বাজার চড়া | |

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের বাজার চড়া

দেশে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর)ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। ভারত সরকারে দাবি, উৎপাদন ও মজুতের ঘাটতির কারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এদিকে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় হিলি স্থল বন্দরের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ থেক ২০ টাকা বেড়েছে। একদিনের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেয়াজের দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। রোববার বিকেল চার’টা থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বের এলসির বিপরীতে কোন পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিচ্ছেনা ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। বেশি দামের আশায় পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে অনেক আমদানিকারকের বিরুদ্ধে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশ ভারত। বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় চলতি মৌসুমি পেঁয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এ বছর ভারতের বাজারেও পেঁয়াজের মূল্য বেশ চড়া। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণ বিষয়ক মুখপাত্র সীতাশু কর বলেন, ‘রপ্তানি নীতির সংশোধন করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের পেঁয়াজ রপ্তানিতে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।’

গত জুনে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার তখন রপ্তানি ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয়। মূলত আগের বছরের মজুত থেকে এ বছরে পেঁয়াজ সরবরাহের পরিমাণ হ্রাস ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বপনে বিলম্ব হওয়ায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশটি।

বন্যার কারণে পেঁয়াজের কাঙ্খিত উৎপাদন হয়নি। ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। আগামী অক্টোবরের শেষে নতুন ফসল ওঠা পর্যন্ত এ সঙ্কট থাকবে।

ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় নতুন উৎসের খোঁজে আমদানিকারকরা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে আসতে শুরু করেছে। মিসর ও তুরস্ক থেকেও আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।