বিসিবি পরিচালক লোকমানের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা

রাজধানীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় র‌্যাব বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করে। এর আগে লোকমানকে তেজগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসার সাইফুল বাশার ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার রাত ৯টার দিকে তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়ার বাসা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাড়িতে বিপুল মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‌্যাব জানায়, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির জন্যই তাকে আটক করা হয়। কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের নেতৃত্বেই মোহামেডান ক্লাবে চলত ক্যাসিনো ব্যবসা। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে লোকমান সহায়তা করতেন তাকে। তাই সময়মতো পৌঁছে দেয়া হতো ক্যাসিনো থেকে অর্জিত টাকা।

র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক আশিক বিল্লাল বলেন, ‘আমরা লোকমান হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এরই মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি স্বীকার করেছেন ক্যাসিনোর ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ২১ লাখ টাকা পেতেন। সেই হিসেবে তিনি (লোকমান) প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা করে পেতেন। ক্যাসিনোয় জড়িতরা যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

‘মোহামেডান ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন লোকমান। তার এই টাকাগুলো অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাংক, কমনওয়েলথ ও এএনজেড ব্যাংকে রাখা আছে।

লোকমানের বরাত দিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ওই দুই ব্যাংকে তার ৪১ কোটি টাকা রয়েছে। তার ছেলের অস্ট্রেলিয়া পড়ার সুবাদে, তিনি মাঝে মাঝেই অস্ট্রেলিয়াতে যান।’

র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক জানান, ‘আমরা অনেক দিন ধরে লোকমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা অবস্থান করছিলেন। বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, তিনি তার বাসায় মনিপুরিপাড়া এসেছেন। তখন আমরা বাসাটা ঘেরাও করে তাকে চারলিটার বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করি।’