পেঁয়াজের দাম কমেছে, জেনে নিন বাজার দর

বাণিজ্যসচিব ড. জাফর উদ্দিন পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, পেঁয়াজের দাম আর বাড়বে না। শিগগিরই কমে যাবে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেন নি।

গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সরকার ও ব্যবসায়ীদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব এই আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ আবু রায়হান আলবিরুনীও টিসিবির খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রির কথা উল্লেখ করে একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার (বুধবার সন্ধ্যার) মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। মিয়ানমারের কাছ থেকে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তা করছে সরকার।

পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কিত হতে নিষেধ করে তিনি জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ লাখ টন পেঁয়াজের এলসি সম্পন্ন হয়ে আছে। আমাদের মজুদে আছে ১৬ লাখ টন। আমদানির পর্যায়ে রয়েছে আরো ৪০ হাজার টন।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। আমরা উৎপাদন করতে পারি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টন। কিন্তু পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাংলাদেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে আমাদের ১১ লাখ টনের মতো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

বাণিজ্যসচিব ড. জাফর ভারতে মহারাষ্ট্রের বন্যার ফলে ওখানে পেঁয়াজের ফলন কমে যাওয়াকেই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, সাধারণত ভারত থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে আমদানি করি আমরা। কিন্তু তাদের ফলন কমে যাওয়ায় এই দাম উঠে গেছে ৮৫০ ডলারে।

দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও কেন পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেল এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেন নি বৈঠকের কেউই। এদিকে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন এবং সুদের হার কমানোর জন্য উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আমদানির ক্ষেত্রে বন্দরে যাতে বাড়তি সময় ব্যয় না করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেন বাণিজ্যসচিব।

বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও আরো কিছু এজেন্সি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি না থাকায় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যসচিব।