দেবী আসবেন ঘোড়ায় চড়ে

সনাতন ধর্ম মতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন– বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন, দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর সেই দেবী দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে এবং বিদায়ও নেবেন ঘোড়ায় চড়েই।

হিন্দু পুরাণ মতে, দুর্গাপূজার সঠিক সময় বসন্তকাল; কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি সে পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করেন। সেই থেকে অকালবোধন হওয়া সত্ত্বেও শরৎকালেই দুর্গাপূজা প্রচলন হয়ে যায়।

সারাদেশে এবার ৩১ হাজার ১০০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পূজার জন্য রাজধানীতে প্রস্তুত হচ্ছে ২৩৭টি মণ্ডপ। মণ্ডপগুলোতে নেওয়া হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ,  মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও এলাকাভিত্তিক পূজা কমিটির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহালয়া পালিত হবে। আর সেই থেকেই দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ সময় হবে বিশেষ পূজা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর ৩ অক্টোবর গোধূলিলগ্নে দেবীর বোধন, ৪ অক্টোবর সকালে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আয়োজন। এদিন গোধূলিলগ্নে দেবীর আগমন ঘটবে। মহাসপ্তমীতে সকাল থেকে পূজা চলবে, এছাড়া দুর্গা দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনও করা হবে। এদিন দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। মহাষ্টমীতে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা, দুপুরে সন্ধিপূজা এবং বিকালে মহাপ্রসাদ বিতরণ হবে। নবমীতে সকাল থেকে পূজা চলবে, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা হবে। বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই পূজা হবে এবং বিকালে হবে বিজয় শোভাযাত্রা।

বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এই দিনটি শেষ হয় মহাআরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। শীতল ভোগের আয়োজন করা হয় সেদিন। এরপর পণ্ডিত পূজা শুরু করেন।

সর্বশেষ যে রীতিটি পালিত হয়, এর নাম ‘দেবী বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে ‘দুর্গা-মা’কে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। দুর্গাকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুর তারা একে অপরের মুখে মাখেন। এই সিঁদুর মাখার রীতি অনেক সময় দশমীঘরে পালন করা হলেও অনেকে এটি নিজ ঘরেই করে থাকেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, গত বছর সারাদেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার মধ্যে রাজধানীতে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৩৪টি মণ্ডপে। ২০১৭ সালে সারাদেশে ২৯ হাজার ৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং রাজধানী ঢাকায় মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ২২৫টি।