জামায়াত-শিবিরের লোকরাই পুলিশের উপর হামলা চালাচ্ছে: মনিরুল ইসলাম

নব্য জেএমবির নামে জামায়াত-শিবিরের লোকজনই পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

আজ বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকালে সংবাদকর্মীদের একথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে রাজধানীর দুটি পুলিশ বক্সের সামনে বোমা রাখা হয়েছিলো সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। সর্বশেষে গত পরশু দিনের সাইন্সল্যাবের ঘটনা থেকে এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য উপাত্ত বা ইভেস্টিগেশনে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে পুলিশই মূলত টার্গেট। পুলিশকে টার্গেট করার পিছনে নানা ধরনের ইকুয়েশন রয়েছে, প্রথমত এর আগের ঘটনাগুলো সন্ত্রাসী হামলা বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। আমরা বিগত দিনে অর্থাৎ যদি নিকট অতীত থেকে শুরু করি তাহলে ২০১৩ সাল ১৪,১৫ তে দেখেছি এক ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা। বিশেষ করে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এবং বিচারের দাবিতে যখন গণজাগরন মঞ্চের উত্থান হয়। তখনই আমরা দেখি অনেক বছর পরে আবার জঙ্গিবাদের বিস্তার হতে শুরু করে। এই গণজাগরন মঞ্চ প্রথমত শুরু হয়েছিলো অনলাইন এ্যাক্টিভিটিসদের একটা মুভমেন্ট দিয়ে। আমরা তখন দেখলাম ব্লগার হত্যাকান্ড শুরু হয়েছে এবং ব্লগার, অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট মানেই নাস্তিক এইরকম একটা আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেশবাসীকে দাঁড় করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের সাথে যারা জড়িত ছিলো সেই দলই কিন্তু বেনিফিসিয়ারী। গণজাগরন মঞ্চের আন্দোলনটি শেষ পর্যন্ত একেবারে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপট থেকে আমরা দেখেছি গণজাগরণ মঞ্চের পরেও এই জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত ছিলো এবং একটা পর্যায়ে হোলি আর্টিসানের ঘটনাটি সংঘটিত হয়। হোলি আর্টিসান ঘটনার সময় আমরা দেখিছি যে, শুধু মাত্র জামায়াতুল মুজাহিদিনের মতো একটি অংশ যারা নব্য জেএমবি হিসেবেই পরবর্তীতে অর্থাৎ হোলি আর্টিসানের ঘটনা এবং তার পূর্ববর্তী কিছু ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো।

তিনি আরো বলেন, জেএমবিটা ছিলো মূলত জামায়াত ইসলামের সাবেক নেতাকর্মী ,শিবিরের নেতাকর্মী তারাই কিন্তু এই জঙ্গিবাদের সথে এই দলটি তৈরী করেছিলো বলা যায়। পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বা সাবেক যারা তারা এই দলে যোগদান করে জড়িত হয়েছে। এই প্রেক্ষিত থেকে দেখলে আমরা দেখেছি সর্বশেষ ২০১৬র পরেও যারা জড়িত হচ্ছে এদের অনলাইন এ্যাকটিভিস্টাই বেশি। কারণ হোলি আর্টিসানের পরে তাদের যে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছিলো, তাতে এক্স শিবির ছাড়াও আরও কিছু তরুণরা যারা মিসগাইডেট হয়ে যোগদান করেছিলো। যারা বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে কিন্তু পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি এদের অনলাইন প্রচারণা। তাদের সাংগঠনিক প্রচারণা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে অনলাইন প্রচারণাটা বেশি হয়েছে। এই অনলাইন প্রচারণার ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ছাত্র শিবিরের ব্যবহৃত কিছু ট্রেডমার্ক ল্যাঙ্গুয়েজ এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় যারা ধরা পরছে তারাও দেখা গেছে শিবিরের সাথে জড়িত ছিলো এবং এমনও কেউ কেউ আছে যে ছাত্র শিবিরের নেতা হিসেবে ১৫/১৬ টা মামলা রয়েছে। সে এই দলে যোগদান করেছে অর্থাৎ এই জঙ্গি গোষ্টিতে নাম লিখিয়ে সে জঙ্গি হিসেবেই এখন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরকম কিছু লোককে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি যাদেরকে গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা আছে।

সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, রাজনৈতিক ভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচার যখন শুরু হয় তখন তারা যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো, সেটা প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা দেখেছে পুলিশকে। অর্থাৎ তাদের বিশৃঙ্খলা তৈরী থেকে নৈরাজ্য যাতে তৈরী করতে না পারে সেটি প্রতিহত করেছে পুলিশ। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে জানমালের ও সরকারি সম্পত্তি নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগ করেছে। এটি তাদের বিপক্ষে গিয়েছে ফলে সেই দিক থেকে পুলিশের প্রতি তাদের একটি ক্ষোভ রয়ে গেছে। তারা মনে করে পরবর্তীকালেও তারা যখনি সংগঠিত হতে চেয়েছে তখনো পুলিশের কারনে তারা সংগঠিত হতে পারেনি। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করবে এটাই স্বাভাবিক। এই কাজটাকে তারা মেনে নিতে পারে নাই। এই কারনে এখন আমরা বুঝতে পারছি এই সংগঠনের নামে যারা চলছে, নব্য জেএমবির এদের অধিকাংশই এক্স ছাত্র শিবির বা এখনো ছাত্র শিবির থেকে পদত্যাগ করে এসেছে এরকমটি নয়। সেই দিক থেকে পুলিশের প্রতি তাদের সাংগঠনিক যে ক্ষোভ ছিল, সেটাকে এখানেও তারা লাগাচ্ছে। সূত্র- ডিএমপি নিউজ।