এবার যেসব এলাকার ফ্ল্যাটগুলোতে নজরদারি

বেশ কয়েকদিন ধরেই অবৈধ ক্যাসিনোতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে নানান চাঞ্চ্যলকর তথ্য। ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কয়েক জনকে। যাদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হতো এই ক্যাসিনো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থা বলেছে তারা ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি তালিকা তৈরি করে ফ্ল্যাটগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি করছেন। তালিকা অনুযায়ী, রাজধানীর বেইলি রোডের ৩টি ফ্ল্যাটে, গুলশানে ১টি, বনানীতে ১০টি ও উত্তরায় ৭টি ফ্ল্যাটে অবৈধ ক্যাসিনোর ব্যবসা রয়েছে।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাটেও ক্যাসিনো স্থাপন করা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ক্যাসিনো পরিচালনা করছেন কয়েকজন নেপালি ব্যবসায়ী। পাশাপাশি নেপাল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা কয়েকজন বাংলাদেশি যুবকও এগুলোতে কাজ করেন।

সূত্র জানা যায়, তারা ঢাকার অভিজাত এলাকার ২১টি ফ্ল্যাটে ক্যাসিনো চলার তথ্য পেয়েছেন। শিগগিরই সেখানে অভিযান চালানো হবে। এগুলো পরিচালনা করেন কয়েকজন নেপালি। যাদের কেউ কেউ স্টুডেন্ট ভিসা আবার কেউ বাংলাদেশে ঘুরতে আসার ভিসা নিয়ে এসব কাজ করছেন। ফ্ল্যাটের এসব ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতারা।

ঢাকার বেইলি রোডের ক্যাসিনো তিনটির নিয়ন্ত্রক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে আহমেদ টাওয়ার, সুইট ড্রিমসের ক্যাসিনো নিয়ন্ত্রণ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন ওরফে সেলিম।

অন্যদিকে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকের দোতলায় ক্যাসিনো চালাচ্ছেন উত্তরা পশ্চিম থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকারিয়া। এসব এলাকার ভবনের ফ্ল্যাটগুলো অনেক নিরাপদ, সেখানে অপরিচিত কেউ ঢুকতে পারে না। তাই এসব ফ্ল্যাটে ক্যাসিনো স্থাপনকে নিরাপদ বলে মনে করে এগুলোতে ক্যাসিনো স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম গণমাধ্যমকে বলেন, র‍্যাব বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদি ক্লাবের পাশাপাশি এসব এলাকার ফ্ল্যাটে কোনো ধরনের ক্যাসিনো থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে র‍্যাব।