অস্থিতিশীল পুঁজিবাজারে আস্থার অভাব | |

অস্থিতিশীল পুঁজিবাজারে আস্থার অভাব

দেশের পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতা ও হতাশায় শেয়ার বিক্রি করে মূলধন তুলে নিয়ে বাজার ছেড়েছেন অনেকেই। গল্পটা গত আটবছরের। গত আট বছরে পুঁজিবাজারে শেয়ারের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি বিনিয়োগকারী। উল্টো কমেছে। আর এমনটাই মনে করছে বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারনা, বাজারের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য দরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে বড় ধরণের পরিবর্তন। পাশাপাশি কারসাজিকারিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া।

গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের বড় পতন হয়েছে। একসই সঙ্গে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই। সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। আর বাজারটির প্রধান মূল্যসূচক কমেছে দেড় শতাংশের ওপরে। বাজার মূলধনও প্রায় দেড় শতাংশ কমেছে। এর মাধ্যমে টানা তিন সপ্তাহ পতনের মধ্যে থাকলে দেশের পুঁজিবাজার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবে লাভজনক মনে না করায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার ছাড়ছেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে আশানুরূপ লভ্যাংশ বা মুনাফা না পেয়ে হতাশা ও প্রাইমারি মার্কেটে আইপিওতে শেয়ার বরাদ্দ না পাওয়ায় আস্থাহীনতায় বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘ সময়েও পুঁজিবাজারে সুশাসন না আসায় পুঁজির অনিশ্চয়তা থেকে বাজার ছাড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

২০১০ সালে ধসের পর বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ পুঁজিবাজার ছেড়েছে। মাঝে ছাড়ার প্রবণতা কমে এলেও গত তিন বছরে ২০১৬ সাল থেকে ছয় লাখের বেশি বিনিয়োগকারী হিসাব বন্ধ করে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন।

পুঁজিবাজারের এ মন্দা নতুন কোন বিষয় নয় উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে, বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফেরাতে না পারলে পুঁজিবাজার বড় হুমকির মুখে পড়বে।

আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা কম। তারা জেনে-শুনেও খারাপ শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগকারীদেরকে মনে রাখতে হবে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ নিজেদেরকেই রক্ষা করতে হবে। অনেক বিনিয়োগকারীই মনে করেন পুঁজিবাজার মানেই স্বল্প সময়ে অনেক লাভ। এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করাই ভালো।