২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা | |

২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা

দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর থেকে (নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার) গ্রেনেড উদ্ধারের রহস্য আজো উদ্ঘাটন করা যায়নি। কে বা কারা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে গ্রেনেডটি রেখেছিল, কী উদ্দেশ্য ছিল, সেই প্রশ্নের জবাব অজানাই থেকে গেল।

তবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তারা ব্যাপক অনুসন্ধান করে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকারীদের আড়াল করতেই হরকাতুল জিহাদ (হুজি) এ ঘটনা ঘটিয়েছিল। হুজিরা একুশের গ্রেনেড হামলার দায়ভার বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল। আর কারাগারে গ্রেনেড উদ্ধারের পর চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন কারারক্ষী (জেল ওয়ার্ড) সোহেল মণ্ডল। তিনি ছিলেন ঘটনার শিকার।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শনিবার বিকালে রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। আর পরের দিন সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর থেকে (২৬ ও ৯০ নম্বর সেলের মাঝামাঝি ড্রেনে) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি আর্জেস গ্রেনেড (একই ধরনের গ্রেনেড ব্যবহূত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে)। এটি প্রথমে দেখতে পান পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিন্টু। এরপর তিনি এক কারারক্ষীকে ডেকে আনেন। ঐ কারারক্ষী গ্রেনেডটি দেখেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপরই কারাগারের ভেতরে শুরু হয় ছোটাছুটি। খবর পেয়ে ঐ দিন দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি বিস্ফোরক দল গ্রেনেডটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ লালবাগ থানায় (বর্তমানে চকবাজার) একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এ নিয়ে থানা-পুলিশ খুব একটা মাথা ঘামায়নি। তবে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা করে। ফাঁসানোর চেষ্টা করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। পুরোপুরি আড়াল করার চেষ্টা করে হুজিদের। অজপাড়াগাঁয়ের জজ মিয়াকে দিয়ে নাটক সাজানোর ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু হয়। এরপরই হামলার প্রকৃত ঘটনা ও হামলাকারীদের নাম প্রকাশ পেতে থাকে।