স্বপ্নার পরিবারকে হুমকি দিতো সজীব

রাজধানীর মগবাজারে বিয়েবাড়িতে কনের বাবাকে হত্যাকারী সজীব মাহমুদ রকি এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। অনেক আগে থেকে স্বপ্নাকে উত্ত্যক্ত ও তাকে বিয়ে করতে চাইত সজীব। সজীবের হুমকির কারণে স্বপ্নাকে নিজ বাসায় রাখতেন না তার বাবা।

শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়ে কথা হয় হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রশিদের সঙ্গে। তিনি  বলেন, ‘সজীব যে স্বপ্নার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল সে বিষয়ে তারা তেমন কোনো অভিযোগ করেনি। হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনার দিন সজীব যে বাসার আশপাশে অবস্থান করছিল, এমন কিছু কেউ বলেনি। সেক্ষেত্রে হয়তো আমরা আগাম ব্যবস্থা নিতাম। সজীবের বিরুদ্ধে পুলিশ এর আগেও মামলা নিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে তুলা মিয়াকে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সুজন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় শুধু সজীবকে আসামি করা হয়েছে।

সুজন মিয়া বলেন, ‘বাবার আয় দিয়ে আমরা চলি। এখন আমরা কোথায় যাব? বাবাকে যে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সজীব আমার বোন ফাতেমা আক্তার স্বপ্নাকে অনেক দিন ধরে বিরক্ত করে আসছিল।

এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছিল কি না, এ প্রশ্নের জবাবে সুজন মিয়া বলেন, হ্যাঁ, জানিয়েছিলাম। তারপরও সজীবকে দমানো যাচ্ছিল না। পুলিশ যদি আরো তৎপর হতো তাহলে আমাদের পরিবারের এত বড় ক্ষতি নাও হতে পারত।

বৃহস্পতিবার মগবাজার এলাকায় ঘুরে জানা গেছে, ওই এলাকায় বখাটে হিসেবেই পরিচিত সজীব। ৫ বছর ধরে সে স্বপ্নাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বাংলা মোটরে একটি মোটরসাইকেল সারাইয়ের দোকানে দুই মাস ধরে মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করত সজীব। বৃহস্পতিবার সে দোকানে যায়নি বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। দিলু রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকত সজীব। বন্ধুদের নিয়ে সন্ধ্যার পর মাদক সেবন করত।

স্থানীয়রা জানান, স্বপ্নার বিয়ের কয়েক দিন আগে থেকেই বাসায় গিয়ে হুমকি দিয়ে আসত সজীব। বাসার সামনে সারা দিন ঘোরাঘুরি করত সে। ঘটনার দিন সকাল থেকেই প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউজের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ আসলে এ ধরনের ঘটনা নাও ঘটতে পারত।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারের দিলু রোডের প্রিয়াঙ্কা হাউজের পাশের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা করে সজীব। তার ছুরিকাঘাতে কনের বাবা তুলা মিয়া মারা যান।