সরকারের নজরদারির অভাবে চামড়ার বাজারে ধস | |

সরকারের নজরদারির অভাবে চামড়ার বাজারে ধস

স্মরণকালের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। রাজধানীতে নির্ধারিত দামের অর্ধেকেও চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আর এর জন্য তারা ট্যানারি মালিকদের দায়ী করছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের এ দাবি অস্বীকার করে দরপতনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের।

কোরবানিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কয়েক লাখ মৌসুমি ব্যবসায়ী, সাময়িক সময়ের জন্য অর্থলগ্নি করেন চামড়া ক্রয়ে। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে যা প্রবেশ করে ট্যানারিতে। বিপুল সংখ্যক চামড়া কেনাবেচায় শৃঙ্খলা ধরে রাখতে সরকারও বেধে দেয় দাম।

কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে এবার। রাজধানীতে বেধে দেয়া দামের অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা চামড়ার দাম। প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া যিক্রি হচ্ছে গড়পড়তা ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। গড়ে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। চামড়া ক্রয়ে ট্যানারি মালিকদের অনীহার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি, বলছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। যদিও তা মানতে নারাজ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।

এদিকে চামড়ার বাজারে ধসের পেছনে সরকারের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দাম বেঁধে দিয়েই দায়িত্ব শেষ, মাঠপর্যায়ে তা মানা হচ্ছে কিনা, তার কোনো তদারকি নেই সরকারের। আর এ অবস্থার সুযোগে স্মরণকালের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া।

তাদের মতে, সমাজের দরিদ্র অংশের পাশাপাশি কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও। চামড়ার দামের এমন নিম্নমুখী প্রবণতায় চলতি বছর এইসব প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হবে।