মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা | |

মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে কবির পরিবার, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা।

মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় কবির সমাধিতে প্রথমে তার পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর পর সেখানে ফুল দিয়ে কবিকে স্মরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় কবি নজরুল অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রতীক। তার এই মূল্যবোধগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল কবির সাহিত্যকর্মের মধ্যে, যা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অসাধারণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।’

‘এ বিষয়টি অনুধাবন করেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবি নজরুলকে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছিলেন।’

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে নজরুলকে নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। এখন তার সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত করে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে হবে। তাতে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা ও হানাহানি থেকে বিশ্ব মুক্তি পাবে।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মাদ সামাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালও উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অসম্প্রদায়িক চেতনার মানবতাবাদী, তার প্রতিটি লেখায় প্রতিবাদী কণ্ঠ, তার প্রতিটি লেখা অসম্প্রদায়িক চেতনার।

‘আমরা আজ শপথ করব, আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করে কবির স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ব।’

সরকার কবির পরিবারের সদস্যদের খোঁজ রাখছে না- এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় কবি হিসেবে সবার কাছে তিনি সমাদৃত, এটা মুখের কথা নয়, এটা আমাদের বিশ্বাসে ও প্রতিটি কর্মে প্রমাণ করেছি। আমরা বাস্তবে তার চেতনাকে ধারণ করছি। এটিই হচ্ছে বাস্তবতা, আমরা তাকে স্মরণ করছি, শ্রদ্ধা করছি।’

আওয়ামী লীগের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও জাতীয় কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিতে হবে। জাতীয় কবি আমাদের যে বিদ্রোহ শিখিয়েছেন, সেই বিদ্রোহে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করব।’

অন্যদের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল সংগীতশিল্পী পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, নজরুল চর্চা কেন্দ্র বাঁশরী, বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সকালে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।