বিশ্রাম প্রসঙ্গে কোহলিদের উদাহরণ দিলেন সাকিব

ব্যাপারটা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন নয়। সিরিজের পর সিরিজ টানা খেলে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় বিশ্রাম। এই ধারার পক্ষে নন সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার পেতে খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর কথা বললেন ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলে আসার পর শ্রীলঙ্কা সিরিজে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সাকিব। তাকে ছাড়া শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বাংলাদেশ হয়েছে হোয়াইটওয়াশ। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সময়ও বিশ্রাম নিয়েছিলেন সাকিব। সেবার সমালোচনাও হয়েছিল প্রবল। সাকিব বলছেন, একজন খেলোয়াড় শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকলেই কেবল তার খেলা উচিত।

আজ রাজধানীর বনানীতে এক স্কুলে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক একটি আয়োজনে এসে সাকিব বলেছেন, ‘আমি মনে করি এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ঠিক হতে পারে ভুলও হতে পারে- যখন একজন খেলোয়াড় প্রস্তুত থাকে তখনই তার খেলাটা উচিত। যখন সে প্রস্তুত না খেলাটা উচিত না। কিংবা পুরো ফিট না থেকে খেলাটা কঠিন হয়ে যায়। পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে এটা অনেক বড় ভুমিকা পালন করে যে আপনি কতটা ফিট, কতটা আনফিট। সেটা মানসিকভাবে হতে পারে, শারীরিকভাবে হতে পারে। এই জিনিগুলো আমাদের বুঝতে হবে। কারণ এখন আধুনিক ক্রিকেট যে অবস্থায় এসেছে এত পরিমানে ম্যাচ থাকে এই জিনিসগুলো সামলানো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

‘আপনি যদি অন্যান্য দলের দিকে তাকিয়ে দেখেন এই জিনিসিগুলো কিন্তু কোচিং স্টাফ বলেন, ফিজিও বলেন, ট্রেনাররা বলেন; ওদের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে কিন্তু ম্যানেজমেন্ট জিনিসগুলো চালু করেছে। কারণ একটা খেলোয়াড়ের পক্ষে টানা খেলা কখনোই সম্ভব না। এই বিশ্রামগুলো তাই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্রামগুলো যখন থাকবে অনেক খেলোয়াড়ের সুযোগ আসবে। পাইপলাইনের খেলোয়াড়ও তৈরি হবে বলে আমি মনে করি। এই জিনিসগুলো তাই অনেক বিস্তর আকারে পরিকল্পনা করতে হবে।’

কিন্তু এই বিশ্রামের ব্যাপারটা ঠিক করবে কে? সাকিব বললেন, ‘দেখেন এটা দুজনেরই দায়িত্ব। বোঝারও দায়িত্ব। যখন একজন খেলোয়াড় বলছে যে না, আমার মনে হয় আমার বিশ্রাম নেওয়া উচিত। কিংবা কোচিং স্টাফ থেকে বলছে তোমার এই বিশ্রামটা নেওয়া উচিত। খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও এটা বোঝা উচিত, কোচিং স্টাফদেরও বোঝা উচিত।’

ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর ব্যাপারে সাকিব উদাহরণ দিলেন ভারতের, ‘আমি ভারতের একটা ভালো উদাহরণ দিতে পারি। গত বছরে ওদের ইতিহাসে কম ইনজুরি হয়েছে খেলোয়াড়দের। এর একটা বড় কারণ ওরা বাই রোটেশন (ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে) নীতিতে খেলেছে। এটাতে যেটা হয়েছে, ওদের অনেক খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। অনেকে খেলোয়াড় এক্সপোজার পেয়েছে। একই সময়ে ওদের খেলোয়াড়রা যখন যে এসেছে তখন ফ্রেশ অবস্থায় খেলতে পেরেছে ও পারফর্ম করতে পেরেছে।’

‘আপনি যদি দু-একজন দেখেন, বিরাট কোহলিসহ সবাইকে কিন্তু বিশ্রাম দিয়েছে। কোনো না কোনো ফরম্যাটে, কোনো না কোনো সিরিজে সবাই বিশ্রাম পেয়েছে। তিনটা ফরম্যাট খুব কম খেলোয়াড়ই এক সিরিজে খেলেছে। এই জিনিসগুলো আমাদের বুঝে কাজ করতে হবে। কোচিং স্টাফ, বোর্ড ও খেলোয়াড়ের মধ্যে খুব ভালো একটা সমন্বয় থাকতে হবে। তা না হলে এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা তৈরি কিংবা নেতিবাচক কথা তৈরি হতে পারে যদি তথ্যগুলো ঠিকভাবে না যায়।’