‘নতুন মিশন’ নিয়ে এগোচ্ছেন অনন্ত জলিল | |

‘নতুন মিশন’ নিয়ে এগোচ্ছেন অনন্ত জলিল

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তারকা অনন্ত জলিল এখন নতুন মিশন নিয়ে এগোচ্ছেন। তার ভাষায় দেশের মৃতপ্রায় চলচ্চিত্র বাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যেগ্যের বিকল্প নেই। একারণেই ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নব নির্বাচিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বুধবার রাতে অনন্ত জলিল এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র বাজারে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। যাদের সাথে কাজ করলে আমরা লাভবান হবো তাদের সাথে কাজের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। দেশে এখন যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বলতেই কলকাতার সাথে মিলেমিশে সিনেমা করাকে বুঝায়। এই চিন্তা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। যারা এই অবস্থার উত্তরণ চায় তাদের উৎসাহ দিতে হবে। তবেই দেশের চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসবে।

বর্তমানে তিনি ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনায় ‘দ্বীন-দ্য ডে’নামের একটি ছবি করছেন। এই ছবির অনুমোদন নিতে গিয়ে তার অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে উল্লেখ করে অনন্ত বলেন, ‘আমি বিএফডিসিতে দুই দফা মিটিং করেও এই ছবির অনুমোদন পাচ্ছিলাম না। এক পর্যায়ে ইরান থেকে ২০ জনের একটি টিম বাংলাদেশে এসে দুই সপ্তাহ থেকে আবার ফিরে গেছে। কোন সিদ্ধান্ত না নিয়েই। পরে প্রযোজক সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু এবং পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ভাইয়ের সহযোগিতায় আমি ছবিটি করার অনুমতি পাই। আমরা প্রশ্ন হলো, একটা ভালো কাজ করতে হলে, এতো বাঁধা কেনো অতিক্রম করতে হবে?’

ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে বিনিয়োগে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি লাভ বলে জানান অনন্ত জলিল। তিনি বলেন, ইরানের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সিনেমা। ওখানে ফেসবুক-ইউটিউবের কোন অনুমোদন নেই। তাই সিনেমা দেখতে হলে প্রেক্ষাগৃহে যাওয়ার কোন বিকল্প নাই। ওই দেশের হিসেব অনুযায়ী ইরানে ৭হাজার প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। তাই যে কোন মানের ছবিই বিনিয়োগকৃত অর্থের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ব্যবসা করতে পারে। আমাদের দেশীয় সিনেমায় এখন টাকা লগ্নি করলে ফেরত আসবে কিনা সেই শঙ্কায় থাকতে হয়। অথচ আমরা যদি ইরানের সাথে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে ২কোটি টাকা বিনিয়োগ করি তাহলে অনায়াশে ৬ কোটি টাকা ব্যবসা করা সম্ভব। এই সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে।

উল্লেখ্য অনন্ত জলিল এখন তেহরানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফারাবি সিনেমা ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করছেন।
লাস্টনিউজবিডি/ওবায়দুর