দু-তিন মাস শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলো পূর্ণ গতিতে চলবে: আব্দুল হালিম | |

দু-তিন মাস শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলো পূর্ণ গতিতে চলবে: আব্দুল হালিম

শিল্প সচিব মোঃ আব্দুল হালিম বলেছেন, আগামী দু’-তিন মাস শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলো পূর্ণ গতিতে চলবে। তিনি বলেন, সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর সিইটিপি সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। কোরবানির সময় ট্যানারিগুলো সারা বছরের সরবরাহের অর্ধেক চামড়া সংগ্রহ করে।

শিল্প সচিব আজ সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়া শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

সভায় বিসিকের চেয়ারম্যান মোশ্তাক হাসান, প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জিতেন্দ্রনাথ পাল, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিলজাহান ভূঁইয়া ও উপদেষ্টা এম এ আউয়াল, সাভারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমান, সাভারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

পিক সিজনে উৎপাদিত চামড়ার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার স্বার্থে সব ট্যানারিকে একসঙ্গে কাজ না করে নিজেদের মধ্যে সময় নির্ধারণ করে কাজ করার আহবান জানান শিল্প সচিব।

শিল্প সচিব বলেন, চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার ফলে কিছু কিছু স্থানে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়া নষ্ট করে ফেলেছেন। এটি সমগ্র দেশের চিত্র নয়। অন্যান্য স্থানের চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

শিল্প সচিব বলেন, লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদন্ডে মোট ১৩৬২ টি পয়েন্ট রয়েছে। এরমধ্যে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্টের জন্য ২০০ পয়েন্ট। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সার্টিফিকেট অর্জনে অবশিষ্ট পয়েন্টগুলোর প্রতি মনোযোগী হবার আহবান জানান শিল্প সচিব।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাভার ট্যানারি শিল্প নগরী ভালোভাবে কাজ করছ। শিল্প নগরীর সিইটিপি’র চারটি ইউনিটই যথাযথভাবে কাজ করছে। শীঘ্রই লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের মানদন্ড অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চামড়ার গুণগত মান ভালো থাকলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ট্যানারিগুলো চামড়া ক্রয় করবে বলে তিনি উলে­খ করেন।

সভায় বিসিকের চেয়ারম্যান বলেন, সিইটিপি সম্পূর্ণ অটোমেটেড হবে। দূর থেকে এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে। ট্যানারির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য খুব শীঘ্রই অস্থায়ী ভিত্তিতে ৩টি ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এগুলোর একটিতে শেভিং ডাস্ট, কাটিং, ফ্লেশিং ১টিতে সিইটিপি স্লাজ কেক ও একটিতে ক্রোম কেক সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু ট্যানারির সেডিমেন্টেশন ট্যাংক নেই আবার অনেক ট্যানারির ট্যাঙ্কের আকৃতি ও ডিজাইনে ত্রুটি রয়েছে । ফলে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্খিত বস্তু পানিতে ভেসে এসে সিইটিপি’র কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ধরনের ট্যানারিগুলো শনাক্ত করে সেগুলোকে নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত সভায় গৃহীত হয়। ট্যানারিগুলো যাতে সকল নিয়ম কানুন মেনে চলে সেজন্য মালিকদের পক্ষ থেকে তদারকির লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিসিটিপি’র বিষয় প্রকল্প এলাকার আশেপাশের লোকালয়ে বসবাসরতদের আস্থা অর্জনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ‚গোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষনের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এছাড়া, ইতিমধ্যে গঠিত কোম্পানির অধীনে সিইটিপি পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবল নিয়োগের জন্য কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জিতেন্দ্রনাথ পালকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বুয়েটের অধ্যাপক মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, কিছু কিছু ট্যানারি ক্রোম বর্জ্য পৃথকভাবে না ফেলায় ক্রোমের সাথে অন্যান্য জিনিস চলে আসছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী প্রতি মেট্রিকটন চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ট্যানারিগুলো ২৫ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করতে পারবে। বর্তমানে সাভার ট্যানারি শিল্প নগরীর ট্যানারিগুলো একই পরিমাণ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৪০ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করছে। এতে করে সিইটিপি’র ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। ডিপ টিউবওয়েলে মিটার লাগানো হলে পানির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উলে­খ করেন।