ঈদের দিনে যেসব খাবার পেলেন কারাবন্দিরা | |

ঈদের দিনে যেসব খাবার পেলেন কারাবন্দিরা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারা দেশে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) ভোর ৭টায় বন্দিদের দেয়া হয় মুড়ি আর পায়েস আর সেমাই। সকালে ঈদের নামাজের আগে তাদের প্রত্যেকের সেলে পৌঁছে যায় এই খাবার।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খুশির জোয়ারে ভেসেছে দেশের সবকটি কারাগার। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারা দেশে মুসলিম মতো ঈদ উদযাপন করেছেন কারাবন্দিরাও।

প্রতিবছরের মতো এবারও কারাবন্দিদের জন্য নানা আয়োজন করেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। কেন্দ্রীয় কারাগার মসজিদে ও মুক্ত আকাশের নিচে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন বন্দিরা।

ঈদুল ফিতরের নিয়মিত ইমাম ঈদ জামাতের ইমামতি করেন। নামাজ শেষে বন্দিদের সঙ্গে ঈদ আনন্দে মেতে ওঠেন কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীরাও।

জামাতের পরপরই একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন বন্দিরা। হাসি ঠাট্টায় মেতে ওঠেন তারা। স্বজনদের না পেলেও এদিন বন্দিরা একে ওপরকে আপন করে নেন। প্রতি ঈদের ন্যায় এবারের ঈদেও ছিল নিয়মিত আয়োজনের চেয়ে অনেক বেশিরকম কিছু।

কারা সুত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ আগস্ট) ভোর ৭টায় বন্দিদের দেয়া হয় মুড়ি আর পায়েস আর সেমাই। সকালে ঈদের নামাজের আগে তাদের প্রত্যেকের সেলে পৌঁছে যায় এই খাবার। ঘরের অনুভূতি দিতে বন্দিদের জন্য এ আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ খাবার দিয়েই ঈদ উদযাপন শুরু করে ঢাকাসহ দেশের ৬৮টি কারাগারের বন্দিরা। খাবার খেয়ে এরপর সকাল ৮টায় কারাগারের ভেতরের ময়দানে ঈদুল আজহার জামাতে অংশ নেন কারাবন্দিরা। এটিই ছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র ঈদ জামাত।

বন্দিদের জন্য দুপুরের মেন্যুতে সাদা ভাত, রুই মাছ আর আলুর দম করা হয়েছে।

রাতের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। সেখানে রাখা হয়েছে, পোলাও, কোরবানির গরুর মাংস ,খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টান্ন এবং পান-সুপারি।

এবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সাড়ে ১১ হাজার কারাবন্দির জন্য ৩ হাজার ৩০০ কেজি কোরবানির গরুর মাংসের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার জেলার মাহাবুবুল ইসলাম মিলন ।

এছাড়া রাতের খাবারের পর বন্দিদের জন্য মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

জেলার মাহাবুবুল ইসলাম মিলন বলেন, ইতোমধ্যে কারাবন্দিদের রাতের আহারের জন্য চাহিদাপত্র অনুযায়ী বেশ কয়েকটি গরু কোরবানি দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান । রাত ৯টার মধ্যে এসব মাংস রান্না করে কারাবন্দিদের খাবারে সরবরাহ শুরু হবে। যেসব বন্দিদের গরুর মাংসে অ্যালার্জি তাদের জন্য খাসির মাংস সরবরাহ করা হবে।

এসব আনন্দকে ছাপিয়ে যে বিষয়টির জন্য আজ অপেক্ষা করছেন কারাবন্দিরা তাহলো, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পরিবারের আনা খাবার খেতে পারবেন।

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের দিন দেশের সব কারাগারে কয়েদি ও হাজতিদের সঙ্গে আত্মীয়-পরিজনদের দেখা করার বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে। সে খাবার যাচাই বাছাই করে বন্দিদের সরবরাহ করতে নির্দেশ দিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।