হার সহ্য করতে না পেরে ভারতীয় সমর্থকের মৃত্যু | |

হার সহ্য করতে না পেরে ভারতীয় সমর্থকের মৃত্যু

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে। বুধবার (১০ জুলাই) জমজমাট এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে হেরে আসর থেকে বাদ পড়ে কোহলিরা। রোমাঞ্চকর ওই ম্যাচে লড়াই করেও দলকে বাঁচাতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রবীন্দ্র জাদেজা।

ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ওই ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরের হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করে ২৩৯ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড।

কিউইদের দেয়া ২৩৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে এই আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। এক পর্যায়ে ৯২ রানে ৬ উইকেট নেই ভারতের। এসময় হারের শঙ্কায় পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। তবে খাদের কিনারা থেকে দলকে তুলে এনে ম্যাচকে আবারও জাগিয়ে তুলেন ধোনি-জাদেজা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জয় উপহার দিতে পারেনি তারা। ১৮ রানে হেরে যায় ভারত।

এমন হারের পর কাঁদতে কাঁদতে গ্যালারি ছেড়েছেন ভারতীয় সমর্থকরা। একই চরিত্র দেখা গেছে ভারতের মাটিতেও। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে বাড়তি চাপ নিতে না পেরে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করেন এক ভারতীয় সমর্থক। শোকাহত এই ঘটনাটি ঘটে ইনিংসের ৪৯তম ওভারে ধোনি রান আউট হওয়ার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি ৩৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিক। নিজের দোকানেই মোবাইল ফোনে লাইভ খেলা দেখছিলেন তিনি।। মৃত সেই ব্যক্তির নাম শ্রীকান্ত মাইতি।

কলকাতায় একটি ব্যবসা করতেন নিহত এই যুবক। জানা যায়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধোনি আউট হওয়ার পরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শ্রীকান্ত মাইতি।

মাইতির অকাল এই মৃত্যু সম্পর্কে তার পাশের মিষ্টির দোকানের মালিক শচিন ঘোষ বলেন, ‘বিকট একটা শব্দ শোনার পর আমরা দৌড়ে যাই তার দোকানের কাছে। গিয়ে দেখি সে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। এরপর আমরা তাকে খানাকুল হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত ঘোষণা করেন।’

প্রসঙ্গত, দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে ভারতকে হতাশ করে প্রথম সেমিফাইনালে শেষ হাসি হাসে নিউজিল্যান্ড। বৃষ্টির কারণে রিজার্ভ ডে’তে গড়ানো ম্যাচে ১৮ রানের জয়ে তারা টানা দ্বিতীয় বারের মতো পা রাখল ফাইনালের মঞ্চে। অপরদিকে, হেরে বাড়ির পথ ধরে ভারত।

ধোনির রানআউট নিয়ে বিতর্ক

ইনিংসের শুরু থেকে ভারত যখন একের পর এক উইকেট হারাচ্ছিল, তখনও মাঠে দেখা যাচ্ছিল না মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। পাঁচ রানে তিন উইকেট হারানোর পর ২৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় ভারত। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে প্রথমে তিন উইকেট হারিয়ে ভারত যখন বিপদে, তখনও ধোনি কেন ব্যাটিংয়ে নেই? এমন প্রশ্ন উঠেছিল কমেন্ট্রি বক্স থেকেও। তবে খেলায় শুভ সমাপ্তি টানতে রিজার্ভ ডে তে সম্পূর্ণ দায়িত্বও এসে পড়ে ধোনির কাঁধে। উইকেটের একপ্রান্ত সামলে নিচ্ছিলেন এই সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক। যদিও ম্যাচ ফিনিশ করতে পারেননি মি. ফিনিশার। গাপটিলের অসাধারণ থ্রোতে রান আউট হয়ে টেল-এন্ডারদের হাতে ম্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

গতকাল বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ১৮ রানে জয়ের পর কিউই অধিনায়ক মার্টিন গাপটিলও স্বীকার করেন, ধোনির রান আউট হওয়াই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এ রান আউট নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও এবং ছবি প্রকাশের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ধোনির রান আউট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ধোনি লকি ফার্গুসনের যে ডেলিভারিতে রান আউট হলেন সেটি বৈধ ছিল কি না এবং বৈধ না হলে ফলটাও পাল্টে যেতে পারত বলে মনে করা হচ্ছে।

ম্যাচের সে মুহূর্তে (৪৯তম ওভার) তৃতীয় পাওয়ার প্লে চলছিল, যখন নিয়ম অনুযায়ী ৩০ গজের বাইরে পাঁচজন ফিল্ডার রাখতে হয়। কিন্তু ফার্গুসনের ওই ডেলিভারির (৪৮.৩) আগে টিভিতে একটি গ্রাফিক দেখানো হয়, যেখানে দেখা যায় নিউজিল্যান্ডের ছয়জন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে। বাউন্ডারি সীমানায় ছয়জন ফিল্ডার রাখার সুবিধা থেকেই ধোনিকে ওই বলে ২রান নিতে দেয়নি নিউজিল্যান্ড। উল্টো রান আউট হতে হয় ধোনিকে। আর নিয়ম অনুযায়ী ফার্গুসনের ডেলিভারিটি ‘নো বল’ হওয়ার কথা। তবে এটাও মনে রাখতে হবে ‘নো বল’ হলেও ধোনি কিন্তু রান আউটই হতেন (নো বলে ব্যাটসম্যান রান আউট হতে পারে)।