শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয় | |

শিশুদের ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয়

ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরে পানি কমে যায়। আর এর প্রভাব শিশুদের ওপর আরো তীব্রভাবে পড়ে। তাই ডেঙ্গু জ্বর হলে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। বর্ষা এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ের মশাবাহিত এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। চারদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি আর এর থেকে শিশুদের রেহাই নিতে রোগের লক্ষণ আর চিকিৎসার বিষয়ে মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে থাকছে আজকের স্বাস্থ্য আয়োজন:

রোগের লক্ষণ: উচ্চ তাপমাত্রা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, সারা শরীরের মাংসে এবং গিঁটে গিঁটে ব্যথা, চামড়ার নিচে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি এবং জ্বর কমে যাওয়ার চার থেকে সাত দিন পর ছোট ছোট লাল দাগ দেখা দেয়, যা চাপ দিলেও মিশে যাবে না। এ ছাড়া দাঁতের গোড়া ও নাক থেকে রক্ত বের হতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি বিশেষত্ব হলো, এটি রক্তনালিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে জলীয় অংশ বের করে দেয়। ফলে রোগী পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। বড়দের চেয়ে শিশুরা পানিশূন্য হয় বেশি। ফলে তীব্র পানিশূন্য হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ার এবং জটিলতার শঙ্কাও তাদের বেশি।

চিকিৎসা: পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবারই শিশুর জ্বরের প্রধান চিকিৎসা। ডেঙ্গু হলেই মানুষ মনে করে প্লাটিলেট তথা সাদা রক্ত বুঝি দিতেই হবে। হন্যে হয়ে সবাই এই রক্ত খুঁজতে থাকেন। মূলত খুবই অল্প সংখ্যক রোগীরই প্লাটিলেট প্রয়োজন হয়। তাই ডেঙ্গুতে গুরুত্ব দিতে হবে পানি ও তরল খাবার খাওয়ানোর প্রতি। বুকের দুধ, পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, জুস, লেবুর শরবত ইত্যাদি একটু পরপরই শিশুর মুখে তুলে দিন। খাওয়ার রুচি কমে যায় বলে এমন খাবার দিন যাতে যথেষ্ট পুষ্টি আছে যেমন- খিচুড়ি।

জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল বড়ি, সিরাপ বা সাপোজিটরি ব্যবহার করুন, যার জন্য যেটা প্রযোজ্য। তবে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। অ্যান্টিবায়েটিক দেওয়াও অপ্রয়োজনীয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বাচ্চাকে মশারির মধ্যে রেখে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখতে হবে। স্কুলে যাওয়া বা অন্য কাজ থেকে পাঁচ-সাত দিন চিকিৎসকের পরামর্শে বিরত রাখুন। আপাতত সুস্থ বাচ্চাদেরও নিয়মিত একই পরীক্ষা বেশ কয়েকবার করিয়ে দেখতে হবে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে কি-না। অন্য পরীক্ষাও করতে হবে। এটা চিকিৎসারই অংশ। একই পরীক্ষা বারবার করছে বলে বিভ্রান্ত হবেন না।

সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে হবে। পর্যাপ্ত স্যালাইন দিলেই হয়। প্লাটিলেট দিতে হয় খুবই অল্পসংখ্যক বাচ্চাকে। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন না। সবাই সচেতন হলে এবং আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে এবং বাসায় জমানো পানি ফেলে দিলে ডেঙ্গু নিরাময় সম্ভব।