বিচারকের পদবীতে ড. বা ব্যারিস্টার নয়, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের নামের আগে ডক্টর বা ব্যারিস্টারসহ যেকোনো ধরনের অর্জিত ডিগ্রী ব্যবহার সমীচীন নয় বলে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া আদেশের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

গত ৭ জুলাই বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারপতির উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রী এবং উচ্চ পেশাগত কোর্স সম্পন্নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু বিচারপতিগণ রায় বা আদেশে তাদের নামের আগে ওই সকল ডিগ্রী বা কোর্সের বিষয় কখনও উল্লেখ করেন না। এছাড়া প্রথা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডার, কজলিস্টসহ দাপ্তরিক কাজেও তা উল্লেখ করা হয় না।

এতে বলা হয়, এ অবস্থায় অধস্তন আদালতের বিচারকগণের মধ্যে যাদের উচ্চতর ডিগ্রী রয়েছে বা পেশাগত উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেছেন বা করবেন তারা মামলার রায় বা আদেশে নামের অংশ হিসাবে ডিগ্রী উল্লেখ করা বাঞ্চনীয়/কাম্য নয়। এ কারণে সংশ্নিষ্ট বিচারকগণ নিজ বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নামের অংশ হিসেবে উচ্চতর ডিগ্রীর ব্যবহার থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন।

রায়ে আরও বলা হয়, ‘ড.’ গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষার একটি ডিগ্রী। ‘ব্যারিস্টার’ পেশাগত বিশেষ একটি কোর্স। ফলে ড. বা ব্যারিস্টার কখনই কোনও ব্যক্তির নামের অংশ হতে পারে না। নিম্ন আদালতের বিচারকগণের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ ও ডিগ্রী লাভ নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এ বিষয়টিকে সকল মহলের উৎসাহ প্রদান এবং ভবিষ্যতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের মধ্য হতে অধিক সংখ্যক বিচারক যাতে উচ্চতর শিক্ষা ও ডিগ্রী অর্জন করতে পারেন সে বিষয়ে সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন। কিন্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় আদেশ বা রায়ে বিচারকের নামের আগে অর্জিত ডিগ্রী নামের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা সমীচীন নয়। মামলা রায় বা আদেশে শুধুমাত্র বিচারকের নাম এবং তিনি কোন আদালতের বিচারক তা উল্লেখ থাকাই সংগত।

রায়ে বলা হয়, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্যাডারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ নিবার্হী বিভাগ এবং সংশ্নিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের হাতে। তাদের শৃঙ্খলাসহ সামগ্রিক বিষয় দেখভাল করার ব্যবস্থাও ভিন্ন। সুতরাং প্রশাসন বা অন্য ক্যাডারের কোন কর্মকতার্র নামের অংশ হিসেবে উচ্চতর ডিগ্রী উল্লেখের বিষয়ে বিচার বিভাগের কোনরূপ মন্তব্য হবে অনাকাঙ্খিত।

রায়ে আরও বলা হয়, প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে, প্রশাসন বা অন্য ক্যাডারের কর্মকতার্সহ অনেকেই নামের অংশ হিসাবে এসব ডিগ্রী উল্লেখ করে থাকেন। তাহলে বিচার বিভাগের কর্মকতার্দের উচ্চতর ডিগ্রী ব্যবহারে বাধা কোথায়। এ প্রসঙ্গে আমাদের সুচিন্তিত অভিমত হলো, একজন বিচারককে কখনওই প্রশাসন বা অন্য কোন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। এতে বিচার বিভাগ ও বিচারকগণের স্বকীয়তা ও মহিমাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের এক বিচারক তার রায়ে নামের ড. পদবী ব্যবহার করায় হাইকোর্ট ড. বা ব্যারিস্টার পদবী ব্যবহারের বিষয়ে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে এই পর্যবেক্ষণ দেন।