বাংলাদেশ সম্পর্কে ট্রাম্পকে ভয়ংকর মিথ্যা, যা বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মিয়ানমার সেনাবহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে কিছুই জানেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! এমনকি গত বুধবার (১৭ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সেটা আসলে ঠিক কোথায়?’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১৭ জুলাই) বিভিন্ন ধর্মের ২৭ জনকে মানুষকে ডেকেছিলেন তাদের দুর্ভোগের কথা শোনার জন্য। সেখানে মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চায়না, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, আফগানিস্তান, নর্থ কোড়িয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান জার্মানি, বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি দেশের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের প্রত্যেকেই ট্রাম্পকে তাদের নিজ দেশের দুর্ভোগের কথা বলছিলেন। সেখানেই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নারী ট্রাম্পকে বলেন, তার জমি জমা কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশি মুসলিমরা, তার ঘরবাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাই তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।

ওভাল অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে। এখনো সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেসবের কোনো বিচার নেই।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশি নারী সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মিলার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নারী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর কথা জানিয়ে মিলার বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।