প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত | |

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাঙ্গামাটিতে টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুই উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ। দেখা দিয়েছে রাঙ্গামাটি প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি ভাঙন।

ভুষনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মামুনুর রশিদ মামুন জানান, প্রবল বর্ষণে বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে প্রায় শতাধিক পরিবার গৃহহীন পড়ে। এলাকায় কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিচ্ছে প্লাবিত এলাকার মানুষগুলো। অনেক ফসলী জমি ডুবে যাওয়াতে কৃষকরা ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ভুষনছড়া ইউনিয়নের অনেক রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাওয়ায় অত্র এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা
অকোজো হড়ে পড়ছে।

এদিকে টানা ছয়দিনের মত হালকা ও মাঝারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়েছে ৮৩ এমএসএল (মীনস সী লেভেল)। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় প্রতিনিয়িত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান হাবিব জিতু জানান, ইতিমধ্যে আশ্রীতদের জন্য বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্রুতগতিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। বৃষ্টি না কমলে আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। নদীতে স্রোতের কারণে ত্রাণ সামগ্রী এখনও পৌঁছেনি প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা
করছেন। পৌর এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বাজার থেকে খাবার কিনে সরবরাহ করা
হচ্ছে।

তিনি জানান, তুলাবান, বারিবিন্দুঘাট, মধ্যম ডেবার পাড়া, মুসলিম ব্লক, পুরান মারিশ্যা, মাষ্টার পাড়া বটতলী এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এলাকাগুলোতে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ হতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলার পর প্রায় ৩০০ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকেই আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফল আলী খান জানান, পৌরসভার অনেক এলাকায় মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। টিউবওয়েলগুলো ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যারা আশ্যয় কেন্দ্রে আসবেন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে রাঙ্গামাটিতে ছয়দিন ধরে দিনরাতে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বর্ষণে মানুষের জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে
সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি ভাঙন। ভাঙ্গনের ফলে ঘাগড়া এলাকায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা (উপমা) জানান, রাঙ্গামাটি দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলাগুলোর আশ্রয় কেন্দ্রগুলো খোলা রাখা হয়েছে। উপজেলার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার মজুদ করা হয়েছে।

যে কোনো ধরনের দূর্যোগের ঘটনা ঘটলেই শুকনো খাবারগুলো সরবরাহ করা হবে। ইউনিয়নগুলোতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষদের সরে যেতে সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে।