নওশাবার মামলা সাইবার ট্রাইব্যুনালে বদলির নির্দেশ

মডেল ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমদের বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু ও চোখ তুলে ফেলার গুজব ছড়ানো মামলা বিচারের জন্য সাইবার ট্রাইব্যুনালে বদলির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম দিদার হোসেন মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।  শুনানিকালে নওশাবা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১২ মে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের ইন্সপেক্টর শওকত আলী সরকার এ মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে কাজী নওশাবা ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনোর জন্য মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ এবং প্রচার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ (সংশোধনী) এর ৫৭ (২) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলায় ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নওশাবাকে আটক করে র‌্যাব। এরপর ওই বছরের ৫ আগস্ট চার দিন এবং ১০ আগস্ট দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে ১৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর একই বছরের ২০ আগস্ট ঈদুল আজহার আগের দিন আদালতের ছুটির দিনে সিএমএম আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলে নওশাবা কারামুক্ত হন।

মামলায় বলা হয়, নওশাবা নিজের মোবাইল ফোন থেকে নিজ নামীয় ফেসবুক আইডিতে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে উত্তরার ১৩ নং সেক্টরের ৪ নং রোডের ২ নং বাড়ি থেকে অত্যন্ত আবেদনময়ী কণ্ঠে লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করে বলেন, ‘আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই, একটু আগে জিগাতলায় আমাদের ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুই জনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসাথে হোন। প্লিজ ওদেরকে প্রটেকশন দেন। বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন। প্লিজ আপনারা রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রটেকশন দেন। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আমি এদেশের একজন মানুষ, নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি যে, একটু আগে ওদেরকে অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ প্লিজ ওদেরকে বাঁচান। তারা জিগাতলায় আছে। আপনারা এখই নামবেন। আপনাদের বাচ্চাদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। এটা আমার রিকোয়েস্ট। যে পুলিশরা আছে, তারা অবশ্যই বাচ্চাদের প্রটেকশন দেন। আপনারা প্লিজ কিছু একটা করেন। সরকার যদি দায়িত্ব নিতে না পারে, তাহলে জনগণ কিসের জন্য আছেন আপনারা। আমরা ৭১-এ পেরেছি, ৫২-তে পেরেছি, এবারও পারবো। আমাদের দরকার নাই কাউকে।‘

তার এই আহ্বান মুহূর্তের মধ্যে দেশি-বিদেশি সামাজিক ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে ভাইরাল হয়, ফলে জনমনে আতঙ্ক ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়।

অভিযোগে উল্লেখ হয়, প্রকৃতপক্ষে ওই সময় জিগাতলায় ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।