শিশুর ওজন নিয়ে চিন্তিত ? তাহলে জেনে নিন কিভাবে এর সমাধান করবেন | |

শিশুর ওজন নিয়ে চিন্তিত ? তাহলে জেনে নিন কিভাবে এর সমাধান করবেন

সন্তানের স্বাস্থ্য সঠিক রেখে তাকে পৃথিবীর আলো দেখানো সব মায়ের কাছেই এক চিন্তার বিষয়। কিন্তু সবসময় তা হয়ে ওঠে না। কম ওজনের সন্তানের স্বাস্থ্যও তেমনই এক চিন্তার বিষয় সব মায়েদের কাছেই। জন্মের সময় শিশুর ওজন ২৫০০ গ্রামের কম হলে তা আন্ডারওয়েটের লক্ষণ। কিন্তু আন্ডারওয়েট শিশুর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক করে তুলতে বিজ্ঞান বাতলে দিচ্ছে অনেকরকম উপায় যা অবলম্বন করলে আপনার শিশু তিনমাস বা তার কম সময়েই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে।

১। ব্রেষ্ট ফিডিং শিশুকে সঠিক ওজন জোগাতে ব্রেষ্ট ফিডিং সবথেকে ভালো উপায়। প্রিম্যাচিউরড শিশু আর কম ওজনের শিশু কিন্তু এক নয়। কিন্তু কম ওজনের শিশুরা সহজে ব্রেষ্ট ফিডিং করতে পারে না। এক্ষেত্রে মায়েরা তাদের উৎসাহিত করতে পারেন। বাচ্চার ঠোঁটে স্তনদুগ্ধের ফোঁটা ফেলে অথবা তার ঠোঁটে স্তনের বৃন্ত রেখে তাকে খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন। যদি একান্তই সে খেতে না চায়, তবে মায়েরা ছোট স্টেরিলাইজড কাপ ব্যবহার করতে পারেন। এতে বুকের দুধ সঞ্চয় করে তা খাওয়ান। দু ঘন্টা অন্তর শিশুকে অবশ্যই দুধ খাওয়ান।

২। শিশুর উষ্ণতা খেয়ালে রাখুন কম ওজনের শিশুর পক্ষে তার শরীরের উষ্ণতা তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। তাই এক্ষেত্রে দরকার আপনার বিশেষ মনোযোগ। শিশুর মাথা থেকে তার দেহের উষ্ণতার সবচেয়ে বেশি অংশ শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। তাই মাথা সঠিকভাবে ঢেকে রাখুন যাতে সহজে শরীর তাপ না হারায়। গরমের সময় বেশি কাপড় দিয়ে শিশুর শরীর ঢাকবেন না। ডাইপার পাল্টানোর সময় কখনোই শিশুর নিম্নাঙ্গের কাপড় সম্পূর্ণ খুলবেন না। চেষ্টা করুন সবসময় আপনার শরীরের কাছে তাকে রাখতে। আপনার তাপের সঙ্গে তবেই ও ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারবে।

৩। খোলা ঘরে রাখবেন না শিশুর ঘর সবসময় বন্ধ করে রাখুন। বাইরের দূষিত হাওয়া কম ওজনের শিশুর জন্য মোটেই ভালো না। এতে শ্বাসনালীর ইনফেকশন , বুকের ইনফেকশন ইত্যাদি সহজেই হয়‌। বাইরের কোনওরকম জীবাণু যাতে ঘরে না ঢুকতে পারে তার জন্য বাইরের লোকের আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন। এটা শুনতে খারাপ লাগলেও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য তাকে বাইরের ইনফেকশন থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কম ওজন হওয়ায় শিশুর ইমিউনিটি লেভেল বা প্রতিরোধ শক্তি দুর্বল থাকে, তাই বাইরের হাওয়া কিন্তু কখনোই নয়।

৪। খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করুন মায়ের খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ এই সময়ে শিশুর জন্য অত্যন্ত জরুরি। আপনার খাবারের প্রভাব আপনার শিশুর উপর পড়বেই। আপনার রোজকার খাবারের রুটিন থেকে বাদ দিতে হবে যেকোনও রকমের স্পাইসি খাবার, খাবারে রাখুন বেশি পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বস। পিজা, বার্গার, রোল, চাউমিন তো নয়ই, বাদ দিতে হবে সবরকম স্পাইসি মশলাও। কম ওজনের শিশুর হজমশক্তি দুর্বল হয়, তাছাড়া মশলাদার খাবার মায়েরা খেলে তার প্রভাব দুধে পড়ে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রের ইনফেকশন ঘটাতে পারে। তাই তিনমাস পর্যন্ত , যতদিন শিশুর ওজন সঠিক হচ্ছে, মায়েরা এড়িয়ে চলুন এই ধরনের খাবার।

৫। খাবারে থাকুক মিনেরেলস্ মায়ের খাবারে এইসময় বেশি পরিমাণে মিনেরেলস্ থাকা উচিত। এই মিনেরেলস দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে যায়। শিশুর হাড়কে মজবুত করে ও ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। মায়েদের খাবারে এই সময় আয়রন, ফোলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ভিটামিনসের মাত্রা বেশি থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য এখন কিছুই অসম্ভব নয়। তাই শিশু কম ওজনের হলেও মায়েদের চিন্তার অবসান হোক। খুব কমদিনেই এই উপায়গুলির মাধ্যমেই শিশুকে সুস্থ ওজন ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করে তোলা যায়।