সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি দিয়েই ‘অ্যাডভোকেট’ হয়ে গেলেন আদুরী | |

সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি দিয়েই ‘অ্যাডভোকেট’ হয়ে গেলেন আদুরী

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা এক নারীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি তাদের শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার মো. ইমরান ও কিশোরগঞ্জের মো. শফিকুল বাশারকে আটক করা হয়। ইমরান ঢাকার মালিবাগ এলাকায় বসবাস করেন বলে জানান। তবে শফিকুল বাশার ঢাকার কোথায় থাকেন তা জানাননি।

দীর্ঘদিন যাবৎ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তারা বিচারপ্রার্থী মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অপকর্ম ও প্রতারণার বিষয়ে জানতে পেরে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুপুরে সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদেরকে কার্যনির্বাহী কমিটির কক্ষে নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা তাদের অপরাধ স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহীর বাগমারা অঞ্চলের বৈলসিংহ এলাকার তানজিম তাসকিন আদুরী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা করেন। তানজিমা তাসকিন আদুরী ঢাকার মাদারটেক বাসাবো এলাকায় বসবাস করতেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে বুধবার আদুরীকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। তাদের ৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয় বলেও জানায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যালয় সূত্র।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও টাউট-দালাল নির্মূল আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া দালাল-টাউটদের ধরার কাজে সহযোগিতা করছেন। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ওই নারী টাউটকে আটকের পর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সমিতির পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানান, বিভিন্ন নামে একাধিক ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন আদুরী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন দাবি করলেও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অনুসন্ধানে তার সত্যতা মেলেনি। এ ছাড়া নিজেকে ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী হিসিবেও দাবি করতেন এই নারী।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমের সঙ্গেও আদুরীর ফেকবুকে ছবি রয়েছে।

আইনজীবী সূত্র জানায়, এসব সিনিয়র এবং ভিআইপিদের কাছাকাছি গিয়ে কৌশলে ছবি তুলে নিজেকে তাদের কাছের লোক পরিচয় দিতো।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম বলেন, এমন অনেক টাউট আছে যাদের হাইকোর্টে প্র্যাক্টিস করার অনুমতি নেই, অথচ তারা নিজেকে হাইকোর্টের উকিল বলে নির্বিবাদে পরিচয় দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের ভিজিটিং কার্ডেও ‘অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ লিখে দেদারসে উকালতি করে বেড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।