প্রায় ৩০ ঘন্টা বন্ধ পর চট্টগ্রাম বন্দর সচল | |

প্রায় ৩০ ঘন্টা বন্ধ পর চট্টগ্রাম বন্দর সচল

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে জারি করা বিপদ সংকেত প্রত্যাহারের পর সচল হয়েছে প্রায় ৩০ ঘন্টা ধরে বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড, টার্মিনাল কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। সেই সঙ্গে বন্দরে জাহাজ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তর থেকে পণ্য খালাসে আর কোনো নিষেধ নেই। শনিবার (৪ মে) বিকাল সোয়া ৩টা থেকে এনসিটি, সিসিটিতে মুভমেন্ট শুরু করে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্টগুলো। তবে জাহাজ প্রবেশের মাধ্যমে জেটি সচল হতে আরও একটু সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের কর্মকর্তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঘূণিঝড় ফণী’র কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদসংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অ্যালার্ট-থ্রি জারি করে। ফলে বন্দরের সব জেটি থেকে জাহাজ বহির্নোঙরে, বন্দর চ্যানেলের সব নৌযান শাহ আমানত সেতুর পূর্বপাশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওইদিন দুপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামাসহ সব ধরণের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ডে কনটেইনারসহ পণ্য উঠানামার সরঞ্জামগুলোকে বেঁধে রাখা হয়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বিপদ সংকেত নেমে যাবার পর আমাদের অ্যালার্টও অটোমেটিক্যালি আর নেই। আমরা আউটার থেকে জাহাজগুলোকে শিডিউল অনুযায়ী জেটিতে আসার জন্য বলেছি। সিএন্ডএফগুলোকে জেটি ও ইয়ার্ডে এসে তাদের পণ্য নিয়ে যেতে বলেছি। সাগর এখনও প্রচণ্ড উত্তাল। এই অবস্থায় রাতের আগে জেটিতে জাহাজ আসতে পারবে কি-না, সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

লাইটারেজ জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের যুগ্ম পরিচালক শফিক আহমেদ বলেন, ‘সংকেত নেমে গেলেও সাগরের অবস্থা ভালো না। এত উত্তাল সাগরে জাহাজ চালাতে মাস্টাররা আগ্রহী নয়।’

উল্লেখ্য, শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ১৭০টি জাহাজ ছিল। এর মধ্যে ফণী’র কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় খোলা পণ্য ও কনটেইনার নিয়ে আটকা পড়ে ৪০টি জাহাজ। বন্দর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এই জাহাজ-জট সামাল দিতে কমপক্ষে দুইমাস সময় লাগবে বলে জানান বন্দরের কর্মকর্তারা।