পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য বিএসইসিকে অভিনন্দন ডিএসইর | |

পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য বিএসইসিকে অভিনন্দন ডিএসইর

টু-সিসি আইন বাস্তবায়ন এবং গত আট বছরে পুঁজিবাজারের নানা সংস্কারের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

আজ সোমবার বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের হাতে অভিনন্দন বার্তা তুলে দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান৷

আজ ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত আট বছরে পুঁজিবাজারের যে উন্নয়ন হয়েছে তার জন্য চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের দক্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে অভিনন্দন জানানো হয়।

২০১০ সালে পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পর তা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পরের বছর মে মাসে এম খায়রুল হোসেনকে চেয়ারম্যান করে বর্তমান কমিশন গঠন করে সরকার। এই কমিশনের দ্বিতীয় মেয়াদ চলছে এখন।

ডিএসইর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ড. এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রজ্ঞা ও মেধা দিয়ে সুদীর্ঘ আট বছর পুঁজিবাজার উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে৷ এ সময়ে বাজার তথা বিনিয়োগকরীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আজ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে৷ এ সময়ে আইনভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যে পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে, তা পরবর্তী বিনিয়োগকারীসহ সব স্টেকহোল্ডারের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ বিশ্বাস করে৷’

এ সাফল্যের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন ও কমিশনারদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাতে প্রস্তাব গৃহীত হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা পর্ষদের ৯২৪তম বোর্ড সভায়৷

গত আট বছরে বর্তমান কমিশন যেসব সংস্কার করেছে তার মধ্যে রয়েছে শেয়ারবাজারে অনিয়ম চিহ্নিত করার মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজার পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের সার্ভেইল্যান্স সফটওয়্যার স্থাপন, যা বাজারের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এক্সচেঞ্জগুলো ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর। তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা/পরিচালকদের সম্বিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করা। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পুঁজিবাজারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এম খায়রুল হোসেনের কমিশন পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি আরও নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়৷ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার কর্তৃক বিশেষ স্কিম ঘোষণা; বিনিয়োগ ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করতে দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম প্রচলন, এসএমই বা স্বল্প মূলধনী কোম্পানির তালিকাভুক্তিকরণ ও লেনদেনের জন্য একটি পৃথক বোর্ড গঠন করে এই কমিশন।

ডিএসইর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে কমিশন সময়োপযোগী বিভিন্ন মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে এর বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে৷ এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভিত আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে৷

বিএসইসি তার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে দক্ষতা ও সততার জন্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশন থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরি সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে৷ এই স্বীকৃতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিএসইসির এই অর্জন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে ডিএসই মনে করে।

২০১০ পরবর্তী পুঁজিবাজারের পুর্নগঠন বা সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘দ্য এক্সচেঞ্জস ডিমিউচ্যুয়ালাইজশন অ্যাক্ট-২০১৩’ এর মাধ্যমে এক্সচেঞ্জগুলো ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তরিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী চীনা কনসোর্টিয়াম (সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ) ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড কৌশলগত ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেএে আরো একধাপ এগিয়ে যায়৷

ডিএসইর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএমই বা স্বল্প মূলধনী কোম্পানির তালিকাভুক্তিকরণ ও লেনদেনের জন্য একটি পৃথক বোর্ড গঠন করা হয়েছে৷ সরকারি ট্রেজারি বন্ডের লেনেদেন চালু, ইটিএফ, ডেরিভেটিভসের মতো অ্যাডভান্সড প্রোডাক্ট চালুর জন্য কাজ করছে৷ এ ছাড়া ওটিসি মার্কেটের আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে৷ এসব কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে৷